রাজনীতি
পরাজিত শক্তির কালো টাকায় অরাজকতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে: রিজভী
দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি, বোমাবাজি ও নাশকতার মাধ্যমে চলমান অগ্রযাত্রা ব্যাহত করার ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদেশে পাচার করা এবং দেশের অভ্যন্তরে গচ্ছিত অবৈধ অর্থ ব্যবহার করে এসব তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ জনঅধিকার পার্টি আয়োজিত আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ‘দীর্ঘ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই অভ্যুত্থানে রাজনীতিবিদ ও পেশাজীবীদের ভূমিকা’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতা ও পেশাজীবীরা অংশ নেন।
রিজভী বলেন, পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করে চলমান অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়। এ উদ্দেশ্যে বিদেশে পাচার করা অর্থের পাশাপাশি দেশের ভেতরে থাকা কালো টাকা ব্যবহারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষকে দিন-রাত সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, বর্তমান সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক রয়েছে। ষড়যন্ত্রকারীদের পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে সংশ্লিষ্টদের কাজ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে ব্যাংক-বিমাসহ দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাঁর দাবি, বর্তমানে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকা। ঋণের নামে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটপাট করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রিজভী আরও বলেন, বিপুল ঋণের বোঝা এবং দুর্বল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও বর্তমান সরকার দেশ পুনর্গঠনে কাজ করছে। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করে দেশের অগ্রগতি অব্যাহত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
জুলাই অভ্যুত্থানে তরুণদের ভূমিকার প্রশংসা করে বিএনপির এই নেতা বলেন, তরুণদের অসীম সাহসিকতা দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ সুগম করেছে। অভ্যুত্থানে তাঁদের অবদান রাষ্ট্র ও জাতি আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য ধারণ করে আসছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা যেন নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে উদযাপিত হয়, সে জন্য রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো অপশক্তি যাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ জনঅধিকার পার্টির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইসমাইল সম্রাটের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, জনতার দলের সদস্য সচিব তারেক রহমান এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুববিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।