ক্যাম্পাস

ঢাবিতে গাড়ির ধাক্কায় ৭ শিক্ষার্থী আহত, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করার সিদ্ধান্ত


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম

ঢাবিতে গাড়ির ধাক্কায় ৭ শিক্ষার্থী আহত, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করার সিদ্ধান্ত
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) গাড়ির ধাক্কায় সাত শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের (এফবিএস) গেটের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলামের ছেলে সাদমান সাকিব। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির (আইআইটি) ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

আহত সাত শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের এবং বাকি ছয়জন মার্কেটিং বিভাগের ৩২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ইসলাম তাহিয়ার অবস্থা গুরুতর। দুর্ঘটনায় তার পা ভেঙে গেছে এবং মুখ দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অন্য আহত শিক্ষার্থীদের হাত, পা, হাঁটুসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কেটে ও ছিলে গেছে। দুর্ঘটনার পর তাদের প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্তুজা মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে একজন আতঙ্কিত হয়ে পড়লে তাকে অক্সিজেন দেওয়া হয়। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাদমান সাকিব গাড়ি চালানো শিখছিলেন। এ সময় গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের ধাক্কা দেন। দুর্ঘটনার পর উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তাকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান।

ঘটনার বিষয়ে সাদমান সাকিব বলেন, ‘আমি আগে তেমন গাড়ি চালাইনি। মঙ্গলবার শখের বশে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিলাম। সঙ্গে চালকও ছিলেন। গাড়ি চালাতে চালাতে কলাভবনে একটি চক্কর দিয়ে আসি। ওই মুহূর্তে বেশি মানুষ দেখে আমি ভয় পেয়ে যাই। এফবিএসের সামনে এসে ব্রেক করতে গিয়ে অ্যাক্সিলারেটরে চাপ দিয়ে ফেলি। সঙ্গে সঙ্গে গাড়িটি দ্রুতগতিতে ছুটতে থাকে। সামনে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীকে প্রথমে গাড়ি ধাক্কা দেয়। পরে চালকের সহায়তায় গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে আসে।’

দুর্ঘটনার আগে গাড়িটি অস্বাভাবিক গতিতে চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শী সিনহা মল্লিক। তিনি বলেন, ‘আনুমানিক সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্যাডো থেকে সাইকেল নিয়ে এফবিএস সড়কে উঠতেই গাড়িটি আমাকে অস্বাভাবিকভাবে ওভারটেক করে এফবিএসের দিকে যায়। সামনে যত রিকশা বা শিক্ষার্থী আসছিল, তাদের উদ্দেশে খুব জোরে হর্ন দিচ্ছিল। সম্ভবত ওই চক্করে দুর্ঘটনাটি ঘটেনি, পরবর্তী চক্করে ঘটেছে।’

দুর্ঘটনার পর প্রক্টর কার্যালয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এ ঘটনায় মামলা করার দাবি জানান। তারা প্রশাসনকে বাদী হয়ে মামলা করার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি এ দাবির পক্ষে লিখিত আবেদন তৈরি করে শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. শান্টু বড়ুয়া বলেন, ‘আহত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে শাহবাগ থানায় মামলা করার জন্য লিখিতভাবে আমাদের কাছে দাবি জানানো হয়েছে। প্রক্টর অফিসও এ বিষয়ে ইতিবাচক।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রক্টর অফিসের উদ্যোগে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাদী হয়ে মামলা করবে বলে আমরা শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করছি।’

এদিকে, অভিযুক্ত সাদমান সাকিবের বাবা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নেবে, তিনি তা মেনে নেবেন।

দুর্ঘটনার পর আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা এবং ঘটনার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করার উদ্যোগের কথা জানানো হলেও মামলার পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।