জাতীয়

মা ইলিশ রক্ষায় জেলেদের প্রতি মৎস্যমন্ত্রীর আহ্বান, ‘বুকে হাত দিয়ে বলুন, কোনো ইলিশ ধরব না’


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম

মা ইলিশ রক্ষায় জেলেদের প্রতি মৎস্যমন্ত্রীর আহ্বান, ‘বুকে হাত দিয়ে বলুন, কোনো ইলিশ ধরব না’
ছবি: সংগৃহীত

প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকলে ভবিষ্যতে দেশে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। মা ইলিশ সংরক্ষণে জেলেদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বুকে হাত দিয়ে বলুন, কোনো ইলিশ ধরব না।’ প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণ বন্ধ রাখলে দেশের মৎস্যসম্পদ সমৃদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি জেলেদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সুবিধাও নিশ্চিত হবে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে চাঁদপুর সদর উপজেলার পশ্চিম দাসাদী বড় খান বাড়ির মাঠে মৎস্য অধিদপ্তর, চাঁদপুরের উদ্যোগে আয়োজিত ভিজিএফের চাল বিতরণ ও জনসচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, কৃষক ও মৎস্যজীবীদের জীবন-জীবিকার সঙ্গে দেশের অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে সরকার কৃষি ও মৎস্য খাতের সঙ্গে জড়িত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকাকালে জেলেরা যাতে খাদ্যসংকটে না পড়েন, সে জন্য সরকার খাদ্যসহায়তা দিচ্ছে। তবে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি জেলেদের বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগও নিতে হবে।

জেলেদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের ওপর গুরুত্বারোপ করে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, খাঁচায় ভাসমান মাছ চাষের মতো বিকল্প উদ্যোগের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার সময়েও আয়ের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। জেলেদের জীবনমান উন্নয়ন এবং মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকার, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

চাঁদপুরের মৎস্যসম্পদের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ইলিশ উৎপাদন এবং নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতিতে এ জেলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ইলিশের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র সংরক্ষণ করা গেলে দেশের মৎস্যসম্পদ আরও সমৃদ্ধ হবে। একই সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং জেলেদের দীর্ঘমেয়াদি জীবিকা সুরক্ষার সুযোগ তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ শুধু মৎস্য অধিদপ্তর কিংবা প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়। এ সম্পদ রক্ষায় জেলে, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ। চাঁদপুরের পরিচিতি ও অর্থনীতির সঙ্গে এ মাছের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তাই ইলিশের প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা এবং মা ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকা সবার দায়িত্ব।

জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান এবং নৌ পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান।

সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওমর ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম। এ সময় চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এ কে এম সালিম উল্লাহ সেলিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) একরামুল সিদ্দিক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা, প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা এবং মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, মা ইলিশ রক্ষায় জেলেদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্য খাতের উন্নয়নে ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব হবে।