জাতীয়

সাড়ে চার ঘণ্টায় ১৩ স্থানে প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম

সাড়ে চার ঘণ্টায় ১৩ স্থানে প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা এবং ফুটপাতের সার্বিক পরিস্থিতি দেখতে সাড়ে চার ঘণ্টায় ১৩টি স্থান আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। শনিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিট থেকে দুপুর ১টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত পরিচালিত এ পরিদর্শনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা, নাগরিক সেবার মান ও ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। এ সময় একাধিক স্থানের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

পরিদর্শনসূচি অনুযায়ী, শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে যান। সেখানে হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। এ সময় হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময়সীমা দেন প্রধানমন্ত্রী।

এরপর তিনি রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ ও মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিদর্শন করেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটির পরিবেশ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। পরিদর্শনের ধারাবাহিকতায় মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, পাইকপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার এবং সরকারি বাংলা কলেজেও যান প্রধানমন্ত্রী।

পরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় হাসপাতালগুলোর পরিবেশ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সেবার মান পর্যবেক্ষণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

পরিদর্শনের একপর্যায়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলামের কক্ষে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ওই চিকিৎসককে ধূমপান করতে দেখেন তিনি। এ ছাড়া চিকিৎসকের কক্ষটিও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের চেয়ারম্যানকে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ডা. রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এরপর নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানান শিক্ষার্থীদের প্রতি।

এ ছাড়া ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, কলাবাগান স্টাফ কোয়ার্টার এবং আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টার পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। আজিমপুরের সরকারি আবাসিক এলাকায় অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এলাকাটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য দুই সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দেন।

পরিদর্শনের শেষ পর্যায়ে মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় হকারমুক্ত ফুটপাতের পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন উপস্থিত ছিলেন। ফুটপাতের ব্যবহার ও নাগরিকদের চলাচলের সুবিধাসংক্রান্ত বিষয়গুলোও পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।

আকস্মিক এ পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ উন্নত রাখা এবং সরকারি আবাসিক এলাকার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর এ ধারাবাহিক পরিদর্শনে রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবার মান, পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে অপরিচ্ছন্নতা ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়টিও সামনে এসেছে।