জাতীয়

দক্ষ জনশক্তি গড়তে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শ্রমবাজারমুখী শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে: রাষ্ট্রপতি


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম

দক্ষ জনশক্তি গড়তে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শ্রমবাজারমুখী শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে: রাষ্ট্রপতি
ছবি: সংগৃহীত

দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত কর্মসংস্থান উপযোগী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে সমন্বিত ও সামগ্রিকভাবে সাজাতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারেন এবং বেকারত্ব কমিয়ে আনা সম্ভব হয়।

শনিবার বঙ্গভবনে সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান রেজাউল করিমের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব সরওয়ার আলম সাক্ষাতের বিষয়টি জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, করপোরেট সংস্থা ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিদেশ থেকে কর্মী নিয়ে আসতে হচ্ছে। এমনকি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও দক্ষ জনবলের চাহিদা পূরণে বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অথচ দেশে বিপুলসংখ্যক উচ্চশিক্ষিত তরুণ-তরুণী বেকার রয়েছেন। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে উচ্চশিক্ষার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের চাহিদার সমন্বয় ঘটানো জরুরি।

এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কারিগরি, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিষয়ে আধুনিক এবং উচ্চমানসম্পন্ন শিক্ষা প্রদানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেন। পাশাপাশি শিল্প ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ, যোগ্য ও কর্মক্ষম জনবল তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে যেন কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষা গ্রহণ বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের শিক্ষাব্যয় মওকুফ এবং বৃত্তি প্রদানের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম রাষ্ট্রপতিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক একাডেমিক কার্যক্রম, শিক্ষার পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়টি দাতব্য ও অলাভজনক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আদলে পরিচালনার চেষ্টা করছে। শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা ও বৃত্তি প্রদান করে থাকে।

রেজাউল করিম আরও জানান, সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৩২ কোটি টাকা মেধাবী, অসচ্ছল এবং বিশেষ কোটার শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফ ও বৃত্তি হিসেবে প্রদান করে। বিভিন্ন হারে এই আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

সাক্ষাৎকালে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান রাষ্ট্রপতিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তনে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ও প্রেস সচিবের পাশাপাশি সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য সচিব, বোর্ডের সদস্য, উপ-উপাচার্য, রেজিস্ট্রার এবং উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন।