মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪ | ১১ আষাঢ় ১৪৩১
Dhaka Prokash

নির্বাচন বিতর্ক ও সংস্কার

দেশের রাজনৈতিক আন্দোলন এখন জনগণের অধিকারের পাশাপাশি সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে মুখর হয়ে উঠেছে। বিরোধী দলসমুহের আন্দোলনের হুঙ্কার আর ক্ষমতাসীন দল কর্তৃক নির্বাচনের হাওয়া তোলার চেষ্টা,দুটোই চলছে রাজনীতিতে। প্রতি পাঁচ বছর পর নির্বাচন হবে, নির্বাচনের এই সময় সীমা মানলে আর রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে ২০২৩ এর শেষে বা ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা আছে। সে হিসেবে নির্বাচনের আগে আগামী ৮/৯ মাস রাজনীতিতে একটা চরম উত্তেজনার সময়।

বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচন প্রিয় বলে সবাই মানেন। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে এখন তৈরি হয়েছে সংশয় এবং অনাস্থা। আগামী নির্বাচনেও সকল দল কি অংশ নেবে, নির্বাচন কি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হবে? এই প্রশ্ন যেমন আছে অতীতের উদাহরণ দেখে সংশয় তেমনি আছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হয়ে গেলেও দেশের নির্বাচন নিয়ে যত বিতর্ক হয় তার বেশিরভাগ অংশ জুড়েই থাকে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে কি না এবং নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না।

সামরিক শাসন বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যে প্রশ্নে সব আন্দোলনকারী রাজনৈতিক দল একমত হয়েছিলেন তা হলো নির্বাচনটা নিরপেক্ষ হতে হবে। আর ইতিহাস বলে জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের ফলে বাংলাদেশের জন্ম। ৭০ এর নির্বাচন এক্ষেত্রে এক মাইল ফলকের মত কাজ করলেও স্বাধীনতার পর থেকেই সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে ক্ষমতাসীনেরা বরাবরই অনাগ্রহ দেখিয়ে আসছে। মাগুরা উপনির্বাচনকে নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের পর আওয়ামী লীগ তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে। তারা আন্দোলন, নির্বাচন বর্জন এর মধ্যদিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে বাধ্য করে। যেহেতু সংবিধানে ছিল না তাই সংবিধানের অসামঞ্জ্যস্য দূরীকরণের লক্ষ্যে ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ছিল একটি রাজনৈতিক সমঝোতার ফল। এর ফলে আশা করা হয়েছিল শুধু নির্বাচন সুষ্ঠু হবে তাই নয় সমস্ত রাজনৈতিক দল যেন নির্বাচনে অংশ নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী পরিবেশ গড়ে উঠবে।

কিন্তু আশা স্থায়ী হলো না। রাজনৈতিক সমঝোতার উপর ধাক্কা এলো ২০০৪ সালে, বিএনপি সরকারের আমলে, সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনী এলো। এর মাধ্যমে বিচারপতিদের অবসরের বয়সসীমা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাড়িয়ে দেওয়া হলো, যা সন্দেহের উদ্রেগ করল রাজনৈতিক মহলে। দ্বিতীয় ধাক্কা আসে ২০১২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালত কর্তৃক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতের জন্য অসাংবিধানিক ঘোষণা করে প্রদত্ত রায়ের পর। আদেশে প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক ‘প্রসপেকটেভলি’ বা ভবিষ্যতের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন, যদিও এর আগে হাইকোর্টের দুটি বেঞ্চ ত্রয়োদশ সংশোধনীকে সংবিধানসম্মত বলে রায় দিয়েছিলেন।

তবে এর আগেই ‘মেজরিটারিয়ান পদ্ধতিতে’ বা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে, আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের প্রায় ১৫ মাস আগে, ২০১১ সালের ৩০ জুন তারিখে ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে যে বিধান ছিল তা বাতিল করা হয়। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী একতরফাভাবে পাসের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার এই কাজ করে। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাতিল করে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা সৃষ্টির কারণে এবং পরবর্তীতে সর্বস্তরে যে সর্বগ্রাসী দলীয়করণ হয়েছে, তার ফলে শুধু নির্বাচনীব্যবস্থা নয় প্রশাসন ব্যবস্থাও আস্থা হারিয়েছে। একথা উল্লেখ করতে হয় যে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করা হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা রাখার পক্ষে বিশেষ সংসদীয় কমিটির সর্বসম্মত সুপারিশ উপেক্ষা করে, আদালতের সংক্ষিপ্ত আদেশের একটি ব্যাখ্যার ভিত্তিতে (যে ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্ক এখনও চলছে) এবং আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের প্রায় ১৫ মাস আগে। এর পর অনুষ্ঠিত ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের দুটি সংসদ নির্বাচন দেশের রাজনীতিতে এক অমোচনীয় কালির দাগ রেখে গেছে।এ রকম এক পরিস্থিতিতে যখন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কড়া নাড়ছে তখন দেশের নির্বাচন পদ্ধতি, নির্বাচনকালীন সরকার, প্রশাসন ও পুলিশের ভুমিকা এবং নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার সবকিছু নিয়েই সন্দেহ ও অবিশ্বাস দানা বেঁধে উঠেছে। ফলে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতাভিত্তিক নির্বাচন কি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামত ধারন করে? এই প্রশ্ন জোরেশোরে উঠছে। বিষয়টা একটু বিশ্লেষণ করে দেখা যাক। বাংলাদেশে এ যাবতকালে অনুষ্ঠিত এগারটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্যে চারটি নির্বাচনকে আপাত গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়।

সেই নির্বাচনগুলো যেমন ১৯৯১, ১৯৯৬(জুন), ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় রাজনৈতিক দলের প্রাপ্ত ভোট, আসন এবং ক্ষমতায় যাওয়ার মধ্যে একটা বড় ধরনের অসামঞ্জ্যস্য লক্ষ্য করা যায়। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে সরকার গঠনকারী দল বিএনপির প্রাপ্ত ভোট ৩০.৮১ শতাংশ এবং আসন সংখ্যা ১৪০ আর আওয়ামী লীগের প্রাপ্ত ভোট ৩০.০৮ শতাংশ আর আসন ছিল ৮৮। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ৪৮.৯০ শতাংশ ভোট পেয়ে ২৩০ আসন আর বিএনপি ৩৭.২০ শতাংশ ভোট পেয়ে আসন পায় ৩২। দেখা যাচ্ছে এই পদ্ধতিতে ভোটের সংখ্যা ও ভোটের হার নয় কতটা আসনে বিজয়ী হলো এটাই প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এক ভোটেও যদি কোনো প্রার্থী বিজয়ী হন তাহলে বিপক্ষ প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের কোনো মূল্যই থাকে না। সে কারণেই নির্দিষ্ট আসনে বিজয়ী হবার জন্য প্রার্থীরা যেকোনো পথ অবলম্বন করতে দ্বিধা করে না। ফলশ্রুতিতে দেশ শাসিত হয় সংখ্যালঘিষ্ঠ দ্বারা। নির্বাচনী ব্যবস্থার এই দুর্বলতা সংশোধনের জন্য বামপন্থী দলসমূহসহ অনেক রাজনৈতিক দল সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা প্রপোরশোনাল রিপ্রেজেন্টেশন পদ্ধতির কথা বলছেন। এই পদ্ধতিতে নির্বাচনে প্রতিটি ভোট কাজে লাগে বা মুল্যায়িতহয়।

বর্তমানে পৃথিবীর ৯২টি দেশে নানা পদ্ধতিতে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের নীতি অনুসরণ করে নির্বাচন পরিচালিত হয়। এক্ষেত্রে তিনটি পদ্ধতি চালু আছে যেমন মুক্ত তালিকা, বদ্ধ তালিকা এবং মিশ্র তালিকা। এর ফলে একক দলীয় আধিপত্য, অর্থ ও পেশি শক্তির প্রভাব হ্রাস পায় এবং সংখ্যাগুরুর সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলেও সংখ্যালঘু উপেক্ষিত হয় না। নির্বাচন আসছে এবং কীভাবে নির্বাচন হবে তা নিয়ে বিতর্কও বাড়ছে। আগামী দিনে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের চর্চা কীভাবে হবে সে বিষয়ে ভাবতে হলে নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে ভাবতেই হবে। কিন্তু নির্বাচনে যন্ত্রের ব্যবহার নিয়ে যত উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি নিয়ে তত ভাবনা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। অতীতে নির্বাচন হয়েছে কিন্তু গণতান্ত্রিক প্রথা এবং প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হয়নি বরং দুর্বল হয়েছে, গণমানুষের আস্থা হারিয়েছে। আস্থা হারানো মানুষের আস্থা ফেরাতে এবং সংঘাত, সহিংসতা না এড়াতে পারলে দেশ তো অনিশ্চয়তায় পড়বে। সামগ্রিক বিবেচনাতেই নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার তাই জরুরি।

রাজেকুজ্জামান রতন: সদস্য, কেন্দ্রীয় কমিটি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)

Header Ad

মারা গেলেন দেশের শীর্ষ করদাতা ব্যবসায়ী কাউছ মিয়া

হাজী মো. কাউছ মিয়া। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের শীর্ষ করদাতা ও প্রবীণ ব্যবসায়ী ‘হাকিমপুরী জর্দা’র মালিক হাজী মো. কাউছ মিয়া মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।

সোমবার (২৪ জুন) দিনগত রাত ১২টা ৪০ মিনিটে রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কাউছ মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর মিয়া।

তিনি স্ত্রী, আট ছেলে ও আট মেয়ে রেখে গেছেন। মঙ্গলবার (২৫ জুন) জোহরের নামাজের পর ঢাকার আরমানীটোলা মাঠে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হবে।

কাউছ মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর মিয়া বলেন, আব্বা বার্ধক্যের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন। সম্প্রতি সিঙ্গাপুর মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসার পর তাকে দেশে আনা হয়। পুরান ঢাকার বাসভবনে শয্যাশায়ী ছিলেন। শনিবার বিকালে আব্বার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আজগর আলী হাসপাতালে নেওয়া হয়। দুই দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর দুনিয়া থেকে চিরবিদায় নেন। আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া চাচ্ছি। আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করুন, আমিন।

উল্লেখ্য, হাজী মোহাম্মদ কাউছ মিয়ার জন্ম চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে। তিনি দীর্ঘদিন চাঁদপুর জেলা শহরের পুরান বাজারে ব্যবসা করেন। পরে চাঁদপুরের হাজিগঞ্জে, সেখান থেকে নারায়ণগঞ্জ এবং পুরান ঢাকার আরমানি টোলায় ব্যবসা করেন। হাকিমপুরীর জর্দার ব্যবসার পাশাপাশি তার বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা ছিল। ২২ বছর বয়স থেকে ব্যবসা শুরু করেন এবং টানা ৭১ বছর এককভাবে ব্যবসা পরিচালনা করেন।

পিস্তল দেখিয়ে হুমকি, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাকিরের বিরুদ্ধে থানায় জিডি

সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে পিস্তল দেখিয়ে গুলি করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ জুন) বিকেলে রৌমারী থানায় অনলাইনে অভিযোগ দায়ের করেন প্রতিমন্ত্রীর প্রতিবেশী রৌমারীর বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন।

অভিযোগে বলা হয়, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ভুক্তভোগী (আনোয়ার হোসেন) পৈতৃক জমির ৪৫ শতক দখল করে নেন। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জাকির হোসেন লোকজন দিয়ে দখলকৃত জমির পাশে থাকা ভুক্তভোগীর বাকি জমিতে মাটি ভরাট করে দখল করার চেষ্টা করেন।

খবর পেয়ে ভুক্তভোগী ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটি ভরাটে বাধা দিলে জাকির হোসেন ক্ষিপ্ত হন। সাবেক প্রতিমন্ত্রী, তার স্ত্রী সুরাইয়া সুলতানা ও ছেলে সাফোয়াত আদি জাকির ভুক্তভোগীকে শাসান ও মারধর করতে উদ্যত হন। একপর্যায়ে জাকির হোসেন পিস্তল উঁচিয়ে আনোয়ার হোসেনকে গুলি করার হুমকি প্রদান করেন।

বিবাদীরা (জাকির হোসেন, তার স্ত্রী ও ছেলে) ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের লোকজনকে রাস্তাঘাটে একা পেলে মারধরের হুমকি দেন এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির ভয় দেখান।

এ বিষয়ে সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘জমিটি অর্পিত সম্পত্তি ছিল। আমি আদালতের রায় পেয়েছি। সেটি আইনগতভাবে অবমুক্ত হওয়ার পর এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে সীমানা নির্ধারণ করে দখল নিয়েছি। জমির দুই পাশে জনগণের চলাচলের রাস্তা রেখে সীমানা প্রাচীর দিয়েছি। প্রাচীরের নিচের ফাঁকা অংশে মাটি ভরাট করতে গেলে তারা (অভিযোগকারী) বাধা দেয়। এ সময় রাগারাগি হয়েছে। এ সময় তারা আমাকে গালিগালাজ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি দোতলায় ছিলাম। মেয়ে আমাকে নামতে দেয়নি। পিস্তল দেখাবে কী করে? তবে হ্যাঁ, আমার লাইসেন্স করা পিস্তল আছে। তবে সেটা দেখানোর জন্য না। তদন্ত করলে সত্য জানতে পারবেন।’

ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘তিনি (জাকির হোসেন) ভুয়া দলিল বানিয়ে আমার বাবার জমিকে অর্পিত সম্পত্তি দেখিয়ে নিজের পক্ষে একতরফা রায় নিয়েছেন। মন্ত্রী থাকাকালীন ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এটা করেছেন। আমাদের জমি অর্পিত সম্পত্তিতে পড়ে না। আমাদের খাজনা, খারিজসহ সব বৈধ কাগজ আছে। কিন্তু তার ক্ষমতার কাছে আমরা টিকতে পারি না। জাকির হোসেন পিস্তল উঁচিয়ে গুলি করার হুমকি দিয়েছেন। তার মেয়ে বাধা না দিলে তিনি পিস্তল নিয়ে তেড়ে আসতে ছিলেন।’

রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লা হিল জামান বলেন, জিডি পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কোপা আমেরিকায় প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেল ব্রাজিল

ছবি: সংগৃহীত

ক্রিকেট বিশ্বকাপ এবং ইউরো ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপ চলমান থাকা অবস্থায়ই গত ২১ জুন শুরু হয়েছে কোপা আমেরিকা। আর আজ সকালে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নেমেছিল ব্রাজিল।

এবারের আসরের জন্য অভিজ্ঞদের বাদ দিয়ে তরুণ ফুটবলারদের নিয়ে দল গড়েছেন কোচ দরভাল জুনিয়র। তবে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেয়েছে তরুণ সেলেসাওরা। কোস্টারিকার বিপক্ষে আজকের ম্যাচে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি ব্রাজিল। ডি’ গ্রুপে আজ (২৫ জুন) বাংলাদেশ সময় ভোরে শুরু হওয়া ম্যাচটিতে কোস্টারিকার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে ব্রাজিল।

শুরু থেকেই কোস্টারিকাকে চেপে ধরে ব্রাজিল। তবে তাদের একের পর এক আক্রমণ ভেস্তে যায় কোস্টারিকার রক্ষণদেয়ালের জন্য। ম্যাচজুড়ে একটি আক্রমণও না করা দলটির কাজ ছিল কেবল ব্রাজিলিয়ানদের আটকে রাখা। আর সেটিই করে দেখিয়েছে তারা। ড্র করে রুখে দিয়েছে সেলেসাওদের।

ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে শুরু থেকেই আধিপত্য বজায় রাখে ব্রাজিল। তবে কোস্টারিকার রক্ষণভাগ দেয়ালের মতো বাধা দিতে থাকে তাদের। কোনোভাবেই এই রক্ষণভাগ ভেদ করতে পারছিল না তারা। ২২তম মিনিটে দারুণ এক সুযোগ পায় লুকাস পাকুয়েতা। বাঁ দিক থেকে প্রতিআক্রমণে গিয়ে তার উদ্দেশে বল বাড়ান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। কিন্তু বলটি ঠিকঠাক শট নিতে পারেননি ওয়েস্ট হ্যামের এই মিডফিল্ডার।

৩০তম মিনিটে বল জালে পাঠায় ব্রাজিল। রাফিনিয়ার নেওয়া ফ্রি-কিক থেকে রদ্রিগোর পাসে বক্স থেকে পায়ের স্পর্শে গোলটি করেন মার্কিনিয়োস। তবে লম্বা সময় ভিএআর চেকের পর সেটি বাতিল হয় অফসাইডের কারণে। ৪০তম মিনিটে বক্সে ভারগাসের ফাউলের শিকার হন পাকুয়েতা। তখন পেনাল্টির আবেদন জানালেও রেফারি সেটি দেননি।

বিরতির পরও একইভাবে আক্রমণ চালাতে থাকে ব্রাজিল। ৬৩তম মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত তারা। তবে পাকুয়েতার বুলেট গতির শটটি পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। ৭২তম মিনিটে অল্পের জন্য নিজেদের জালে হেডে বল পাঠাননি কোস্টারিকা ডিফেন্ডার কুইরোস।

৭৯তম মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত ব্রাজিল। সতীর্থের ক্রস বক্স থেকে দুর্দান্ত এক শট নেন আরানা। তবে কোস্টারিকা গোলরক্ষক সেটি ঝাপিয়ে ঠেকিয়ে দেন। ৮৫তম মিনিটে সাভিওর শট ঠেকিয়ে দেন ভারগাস। ৮৭তম মিনিটে বক্সে রদ্রিগো ফাউলের শিকার হলে চতুর্থবারের মতো পেনাল্টির আবেদন করে ব্রাজিল। তবে এবারও গলেনি রেফারির মন।

যোগ করা সময়ে দারুণ এক সুযোগ পান রদ্রিগো। বক্সে আসা শট কোস্টারিকা ফুটবলারের পায়ে লেগে চলে যায় পাকুয়েতার কাছে। তার দেওয়া দারুণ পাস গোলরক্ষককে একা পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হলে কোস্টারিকার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে ব্রাজিল।

সর্বশেষ সংবাদ

মারা গেলেন দেশের শীর্ষ করদাতা ব্যবসায়ী কাউছ মিয়া
পিস্তল দেখিয়ে হুমকি, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাকিরের বিরুদ্ধে থানায় জিডি
কোপা আমেরিকায় প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেল ব্রাজিল
হজে গিয়ে ৪৭ বাংলাদেশির মৃত্যু, দেশে ফিরেছেন ১৪ হাজার ৮১৬ হাজি
অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে ভারত
টাঙ্গাইলে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন মোটরসাইকেল আরোহী
সেমিতে যেতে বাংলাদেশের লক্ষ্য ১১৬ রান
রুনা লায়লার সংগীত জীবনের ৬০ বছর পূর্ণ
কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন আলোচিত পাপিয়া
ভোরে শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হচ্ছে টিম টাইগার্স
আত্রাই বিলসুতি বিলে জব্দ করা ১৫ লক্ষ টাকার জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস
আছাদুজ্জামান মিয়ার তথ্য ফাঁসের অভিযোগে এডিসি জিসানুল বরখাস্ত
ভারতীয় বোর্ডকে শর্ত দিয়েছেন গম্ভীর, কোচ হলে ছাঁটাই হতে পারেন কোহলি-রোহিতরা
টাঙ্গাইলে ২০০ বস্তা চাল উদ্ধার, এক ব্যবসায়ীসহ ২ জন আটক
টাঙ্গাইলে কমতে শুরু করছে যমুনার পানি
১০ মাসে ১৩০ মিলিয়ন ডলার নিয়ে গেছে বিদেশিরা: সংসদে অর্থমন্ত্রী
প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন বলেই খালেদা জিয়া সুস্থ আছেন : আইনমন্ত্রী
রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর দুই সদস্যের মাদক সেবনের ভিডিও ভাইরাল
তামিলনাড়ুতে বিষাক্ত মদপানে মৃত বেড়ে ৫৬
আলোচিত জল্লাদ শাহজাহান মারা গেছেন