রাজনীতি

এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় আরও চার নেতা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২১ পিএম

এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন কেন্দ্রীয় আরও চার নেতা
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে কেন্দ্রীয় আরও চার নেতা পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) তারা দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে পৃথকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন—যুগ্ম সদস্যসচিব ও মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন, আইসিটি সেলের প্রধান ফারহাদ আলম ভূঁইয়া এবং কেন্দ্রীয় সদস্য আল আমিন আহমেদ টুটুল।

মুশফিক উস সালেহীন পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটে এনসিপির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি নীতিগতভাবে একমত নন। তিনি আগে কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আকারে এবং পরে স্মারকলিপির মাধ্যমে এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তার মতে, ওই জোটে যোগদান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নাগরিক রাষ্ট্র গঠনের রাজনৈতিক লক্ষ্যসমূহের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন ফেসবুকে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এনসিপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও বৃহস্পতিবার থেকে দলের সব পদ ও দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি জানান, এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেও রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছেন না এবং ‘দেখা হবে রাজপথে’।

আইসিটি সেলের প্রধান ফারহাদ আলম ভূঁইয়া ও কেন্দ্রীয় সদস্য আল আমিন আহমেদ টুটুলও পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। টুটুল উল্লেখ করেছেন, দলের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও আদর্শ স্পষ্ট না হওয়া এবং সদস্যদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি হওয়ায় তিনি স্বেচ্ছায় সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন।

এর আগে (৩১ ডিসেম্বর) এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সংক্ষেপে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এছাড়া শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) তাসনিম জারা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জানিয়েছেন যে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৯ আসনে নির্বাচনে অংশ নেবেন। এরপর তার স্বামী খালেদ সাইফুল্লাহও যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

এভাবে একের পর এক কেন্দ্রীয় নেতা পদত্যাগ করায় এনসিপিতে রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও সংকট তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।