প্রবাস
ওমরাহ পালনে যাওয়ার পথে সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৩ বাংলাদেশি নিহত
পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে পরিবার নিয়ে মক্কার পথে রওনা হয়ে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন সৌদি আরবপ্রবাসী কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম খোকন। দুর্ঘটনায় তার স্ত্রী ও দুই সন্তান নিহত হয়েছেন। আহত অবস্থায় তিনি ও তার বড় ছেলে বর্তমানে সৌদি আরবের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত ২৩ জুলাই বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টার দিকে সৌদি আরবের রিয়াদ-মক্কা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের আকবরনগর গ্রামের বাসিন্দা তানিয়া তাহমিনা রিনা (৪৫), তার ছেলে তাসবিক (২০) এবং মেয়ে জারা (১৫)।
শুক্রবার নিহতদের গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকার পরিবেশ।
পারিবারিক সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বড় ছেলে নাবিল ইংল্যান্ডের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়ায় আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পরিবার নিয়ে ওমরাহ পালন করতে যাচ্ছিলেন সফিকুল ইসলাম খোকন। তবে গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হারাতে হয় তাকে।
খোকনের চাচা করম আলী জানান, প্রায় এক বছর আগে অসুস্থতার কারণে খোকন স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে দেশে এসে কিছুদিন গ্রামের বাড়িতে ছিলেন। এরপর আবার সৌদি আরবে ফিরে যান।
খোকনের চাচাতো ভাই রুবেল মিয়া বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা গভীর শোকে ভেঙে পড়েছেন। দুর্ঘটনায় খোকন ও তার বড় ছেলে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩৮ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে যান সফিকুল ইসলাম খোকন। পরে দেশে এসে বিয়ে করেন এবং কয়েক বছরের মধ্যে স্ত্রী-সন্তানদেরও সৌদি আরবে নিয়ে যান। সম্প্রতি বড় ছেলে নাবিল ইংল্যান্ডে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়ার পর পরিবারসহ ওমরাহ পালনের পরিকল্পনা করেন। সেই যাত্রাই শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ ট্র্যাজেডিতে পরিণত হয়।
নিহত তানিয়া তাহমিনা রিনার বড় ভাই আবু সালেহ মো. খুশবো জানান, শুক্রবার জুমার নামাজের পর সৌদি আরবেই নিহত তিনজনের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।