ধর্ম

ওমরাহ কি বিয়ের মোহর হতে পারে? যা বলছে ইসলামি শরিয়ত


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:৪৮ পিএম

ওমরাহ কি বিয়ের মোহর হতে পারে? যা বলছে ইসলামি শরিয়ত
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামি শরিয়তে বিয়ের ক্ষেত্রে মোহর নির্ধারণ করা স্বামীর ওপর একটি আবশ্যিক কর্তব্য বা ফরজ কাজ। এটি কোনোভাবেই নারীর মূল্য নয়, বরং এটি স্ত্রীর প্রতি স্বামীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার একটি বিশেষ উপহার। 

পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার ৪ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন যেন নারীদের তাদের মোহর সানন্দে প্রদান করা হয়। তবে আধুনিক সময়ে অনেক ক্ষেত্রেই মোহর হিসেবে ওমরাহ বা হজ করানোর প্রতিশ্রুতি দিতে দেখা যায়। এই বিষয়টি নিয়ে ইসলামি ফকিহ ও আলেমদের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। কোরআনে আল্লাহ বলেছেন,

وَ اٰتُوا النِّسَآءَ صَدُقٰتِهِنَّ نِحۡلَۃً فَاِنۡ طِبۡنَ لَکُمۡ عَنۡ شَیۡءٍ مِّنۡهُ نَفۡسًا فَکُلُوۡهُ هَنِیۡٓــًٔا مَّرِیۡٓــًٔا

আর তোমরা নারীদেরকে উপহার হিসেবে তাদের মোহর দিয়ে দাও, তারপর যদি তারা তোমাদের জন্য তা থেকে খুশি হয়ে কিছু ছাড় দেয়, তাহলে তোমরা তা সানন্দে তৃপ্তিসহকারে খেতে পার। (সুরা নিসা: ৪)

biyeee.jpg
 ওমরাহ বা হজকে সরাসরি বিয়ের মোহর হিসেবে নির্ধারণ করা বৈধ নয়।

আলেমদের নির্ভরযোগ্য মতানুযায়ী, ওমরাহ বা হজকে সরাসরি বিয়ের মোহর হিসেবে নির্ধারণ করা বৈধ নয়। কারণ মোহর হতে হয় এমন কোনো বস্তু বা সম্পদ যার ওপর স্ত্রীর পূর্ণ মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ থাকবে। ওমরাহ মূলত একটি সফর বা ইবাদত, যা সরাসরি কোনো দৃশ্যমান সম্পদ নয়। 

যদি কেউ বিয়ের কাবিননামায় মোহর হিসেবে ওমরাহ বা হজের কথা উল্লেখ করেন, তবে শরিয়তের দৃষ্টিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যাবে ঠিকই, কিন্তু মোহর হিসেবে ওমরাহ কার্যকর হবে না। এক্ষেত্রে স্ত্রীকে ‘মোহরে মিসিল’ বা তার বংশের সমমর্যাদার নারীদের জন্য নির্ধারিত স্বাভাবিক মোহরের সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করা স্বামীর ওপর ওয়াজিব হয়ে যায়।

biyee.jpg
ওমরাহর সম্ভাব্য ব্যয়ের সমপরিমাণ অর্থ মোহর হিসেবে নির্দিষ্ট করে কাবিননামায় লিখতে হবে।

তবে যদি কোনো স্বামী তার স্ত্রীকে ওমরাহ করাতে চান এবং সেটাকেই মোহর হিসেবে দিতে চান, তবে তার একটি সঠিক পদ্ধতি রয়েছে। এক্ষেত্রে নিয়ম হলো, ওমরাহর সম্ভাব্য ব্যয়ের সমপরিমাণ অর্থ (যেমন: ৩ লক্ষ বা ৫ লক্ষ টাকা) মোহর হিসেবে নির্দিষ্ট করে কাবিননামায় লিখতে হবে। বিয়ের পর স্ত্রী যদি স্বেচ্ছায় সেই মোহরের টাকা দিয়ে ওমরাহ করতে রাজি হন এবং স্বামী যদি তাকে ওমরাহ করিয়ে দেন, তবেই কেবল মোহর আদায় হয়েছে বলে গণ্য হবে।

biyeeee.jpg
মোহর হিসেবে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার বা জমি নির্ধারণ করাই উত্তম। 

এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্ত্রীর অধিকার ও সম্মতি। যেহেতু মোহর স্ত্রীর নিজস্ব সম্পদ, তাই তিনি এটি কীভাবে ব্যয় করবেন তা সম্পূর্ণ তার ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। ওমরাহ করার কথা বলে বিয়ে হওয়ার পর স্ত্রী যদি পরবর্তীতে ওমরাহর পরিবর্তে নগদ অর্থ দাবি করেন, তবে স্বামীকে নগদ টাকাই পরিশোধ করতে হবে।

স্বামী তাকে ওমরাহ করতে বাধ্য করতে পারবেন না। সুতরাং, আইনি ও ধর্মীয় জটিলতা এড়াতে মোহর হিসেবে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার বা জমি নির্ধারণ করাই উত্তম, যা দিয়ে স্ত্রী পরবর্তী সময়ে নিজের ইচ্ছামতো ওমরাহ বা অন্য যেকোনো প্রয়োজন মেটাতে পারেন।