সারাদেশ

পটুয়াখালীতে ‘জিন আতঙ্কে’ অসুস্থ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী, হাসপাতালে ২০


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৮ পিএম

পটুয়াখালীতে ‘জিন আতঙ্কে’ অসুস্থ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী, হাসপাতালে ২০
ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ক্লাস চলাকালীন হঠাৎ ‘জিন আতঙ্কে’ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এদের মধ্যে অসুস্থ অন্তত ২০ ছাত্রীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, প্রথমে দশম শ্রেণির ছাত্রী সানজিদা পাঠদান কক্ষে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে সহযোগিতা করতে সহপাঠীরা এগিয়ে এলে তাদের মধ্য থেকেও কয়েকজন অসুস্থ হতে শুরু করে। কারও শ্বাসকষ্ট, কারও মাথা ঘোরা এবং কয়েকজনের হাত-পায়ে খিঁচুনি দেখা দেয়।

কিছু সময়ের মধ্যেই একই ধরনের ঘটনা বিদ্যালয়ের অন্য শ্রেণিকক্ষেও ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে কয়েকজন ছাত্রী মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরিস্থিতি দেখে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়রা এগিয়ে এসে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করেন। পরে গুরুতর অসুস্থদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অসুস্থ শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করতে গিয়ে বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মোর্শেদা বেগমও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের কাছে গিয়ে সহযোগিতা করার সময় তার মাথা ঘুরে যায় এবং তিনি পড়ে যান। কয়েকজন ছাত্রী বিদ্যালয়ের পথে ও বাড়িতে গিয়েও অসুস্থ হয়েছে বলে জানান তিনি।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী পিংকি জানায়, ক্লাসের মধ্যে একজনের পর একজন মাথা ঘুরে পড়ে যাচ্ছিল। অনেকের হাত-পায়ে খিঁচুনি হচ্ছিল এবং শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থাও দেখা যায়। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় ছড়িয়ে পড়ে।

বিদ্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষক নেছার উদ্দিন বলেন, হঠাৎ এত শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ায় শিক্ষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। প্রথমে দশম শ্রেণির সানজিদা অসুস্থ হয়। পরে ধীরে ধীরে অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়।

কলাপাড়া ৫০ শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মানিক মিয়া বলেন, এটি কোনো জিন বা ভূতের ঘটনা নয়। মূলত মানসিক চাপজনিত সমস্যার কারণে এমনটি হতে পারে। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই।

ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবিএম মোশারফ হোসেন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসপাতালে গিয়ে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন।

কলাপাড়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা ইলিয়াস তালুকদার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা হাসপাতালে উপস্থিত হয়েছেন। বড় ধরনের কোনো শঙ্কার কারণ নেই। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে পুলিশ সদস্যরা হাসপাতালে অবস্থান করছেন।