সারাদেশ
চট্টগ্রামে ৯ শ্রমিক মৃত্যুর ৪ দিন পর বাদি হয়ে অপমৃত্যু মামলা করল পুলিশ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মৃত্যুর চার দিন পর অপমৃত্যু মামলা করেছে পুলিশ। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না করায় সোমবার (১৭ আগস্ট) সীতাকুণ্ড থানার পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি করে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর জাহাজের ব্যালাস্ট ট্যাংকে বিষাক্ত গ্যাসের মাত্রা অনেক বেশি পাওয়া গেছে। গ্যাসের পরিমাণ ও ধরন আরও পরীক্ষা করার পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জাহাজটির ব্যালাস্ট ট্যাংকে বিপজ্জনক মাত্রায় হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস জমে ছিল। সেখান থেকেই বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে শ্রমিকদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
তদন্ত কমিটির প্রধান বলেন, দুর্ঘটনার পেছনে কারও গাফিলতি ছিল কি না এবং নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জাহাজটিতে অন্য কোনো বিষাক্ত গ্যাস ছিল কি না, সেটিও পরীক্ষা করা হবে।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে শিল্প মন্ত্রণালয় আট সদস্যের একটি বিশেষায়িত দল গঠন করেছে। বুয়েটের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. ইয়াসির আরাফাত খানের নেতৃত্বে গঠিত দলটি জাহাজের বিভিন্ন চেম্বারে থাকা গ্যাসের ধরন ও পরিমাণ, গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার উৎস এবং দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে কাজ করবে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের পরিবারের কেউ মামলা করতে থানায় আসেননি। এ কারণে পুলিশ বাদী হয়ে অপমৃত্যু মামলা করেছে। ফরেনসিক প্রতিবেদন ও তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ১৪ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে একটি স্ক্র্যাপ জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হন শ্রমিকরা। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে ৯ জনের মৃত্যু হয়।