সারাদেশ

তরুণীর খাটের নিচে লুকিয়ে ছিলেন প্রেমিক, ‘চোর’ ভেবে দেওয়া হলো পিটুনি


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম

তরুণীর খাটের নিচে লুকিয়ে ছিলেন প্রেমিক, ‘চোর’ ভেবে দেওয়া হলো পিটুনি
ছবি: সংগৃহীত

প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গভীর রাতে তার বাড়িতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন ফয়সাল নামে এক যুবক। পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে খাটের নিচে লুকিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি তার। সেখান থেকে তাকে টেনেহিঁচড়ে বের করে ‘চোর’ অপবাদ দিয়ে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় পরে তাকে উদ্ধার করা হয়।

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নুরুল্লাহ সমাজ এলাকায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ফয়সালের বাবা গোলাম মাওলা কয়েকজনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার রামগতি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ফয়সালের পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী এক তরুণীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ফয়সালের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ২৭ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ওই তরুণীর সঙ্গে দেখা করতে তার বাড়িতে যান ফয়সাল। বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন যুবক ঘরে তল্লাশি চালিয়ে খাটের নিচ থেকে তাকে আটক করেন।

ফয়সালের পরিবারের অভিযোগ, আটকের পর তাকে বেঁধে মারধর করা হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তক্ষরণ ও গুরুতর জখম হয়। ফয়সালের বাবা গোলাম মাওলা আরও অভিযোগ করেন, ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার শর্তে তাদের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে এবং স্থানীয়দের চাপে অভিযুক্তরা ফয়সালকে স্থানীয় ইউপি সদস্য ফরিদ মেম্বারের জিম্মায় তুলে দেন।

ইউপি সদস্য ফরিদ মেম্বার জানান, ফয়সালকে আটকের পর তার কাছে নিয়ে আসা হয়েছিল। তিনি যুবকটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে বিষয়টি সামাজিকভাবে বসে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওয়াহেদ। তিনি জানান, গভীর রাতে ফয়সাল তার বোনের ঘরের খাটের নিচে লুকিয়ে ছিলেন। সেখান থেকেই তাকে আটক করা হয়। তার দাবি, স্থানীয় কয়েকজন যুবক ফয়সালকে মারধরের চেষ্টা করলে তিনি অন্যদের সহযোগিতায় তাকে রক্ষা করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ইউপি সদস্যের জিম্মায় তুলে দেন।

রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিটন দেওয়ান জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি খতিয়ে দেখে তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।