সারাদেশ

মানিকগঞ্জে ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রী ও দেড় বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধার


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম

মানিকগঞ্জে ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রী ও দেড় বছরের শিশুর মরদেহ উদ্ধার
ছবি: সংগৃহীত

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের জান্নাকান্দি গ্রামে একটি বন্ধ ঘর থেকে প্রবাসী এক ব্যক্তি, তার স্ত্রী ও দেড় বছর বয়সী কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে হত্যার পর ওই ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে তিনজনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শনিবার দুপুরে কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বারাহিরচর এলাকার একটি ঘর থেকে মরদেহ তিনটি উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন প্রবাসী একরাম হোসেন, তার দ্বিতীয় স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা আক্তার এবং তাদের দেড় বছর বয়সী কন্যাশিশু।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে বিদেশ থেকে দেশে ফেরেন একরাম হোসেন। এরপর থেকে তিনি অনেকটা ঘরবন্দি অবস্থায় ছিলেন। শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাদের কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরের কাছে যান। এ সময় ঘরের টিনের বেড়া কাটা দেখতে পান তারা। পরে ভেতরে ফ্যানের সঙ্গে একরামের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় এবং মেঝেতে তার স্ত্রী ও শিশুকন্যার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

স্থানীয়দের ধারণা, প্রথমে ইট দিয়ে প্রিয়াঙ্কার মাথায় আঘাত করা হতে পারে। পরে শিশুটি কান্নাকাটি করলে তাকেও আঘাত ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এরপর স্ত্রীর ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস নিয়ে একরাম আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে এসব তথ্য এখনো তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী আলামিন জানান, তিনি ওই বাড়ির পাশেই ডেকোরেশনের কাজ করছিলেন। চিৎকারের শব্দ শুনে সেখানে গিয়ে ঘরের টিনের বেড়া কাটা দেখতে পান। পরে ভেতরে একরামকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং তার স্ত্রী ও শিশুকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন।

স্থানীয় তোফাজ্জল জানান, আগের রাতে ওই এলাকায় বক্স বাজছিল। সকালে ৯টা থেকে ১০টার দিকে তাদের ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে ঘরের বেড়া কেটে ভেতরে তিনজনের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। তাদের আর্থিক সমস্যা ছিল না বলে জানালেও পারিবারিক কলহের কারণে ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।

তবে নিহত প্রিয়াঙ্কা আক্তারের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, এত বড় একটি ঘটনা হলেও তাদের দুপুর ১টার দিকে বিষয়টি জানানো হয়। শ্বশুরবাড়ির লোকজন পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

প্রিয়াঙ্কার মা জানান, ঘটনার দুই দিন আগেও মেয়ের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। সে সময় প্রিয়াঙ্কা শুধু জানিয়েছিল, স্বামীর বাড়ি থেকে চলে আসবে। তবে স্বামীর সঙ্গে তার কোনো সমস্যা ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।

মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহরম আলী জানান, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে দাম্পত্য কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।