সারাদেশ
ধর্ষণের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে কলেজছাত্রীর মৃত্যু, প্রধান অভিযুক্ত গ্রেফতার
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে এক কলেজছাত্রীকে বাসায় ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি শান্ত পালকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর দুপুরে গ্রেফতার শান্ত পালকে আদালতের মাধ্যমে গাজীপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নিহত দিয়া বণিক ময়মনসিংহের ভালুকা পৌরসভার থানা রোড এলাকার শিশির বণিকের মেয়ে। তিনি ভালুকা সরকারি কলেজ থেকে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
গ্রেফতার শান্ত পাল কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সাচাইল এলাকার সুনীল চন্দ্র পালের ছেলে। তিনি কালিয়াকৈর পৌরসভার সফিপুর দক্ষিণ আহম্মদনগর এলাকার একটি বহুতল ভবনের চিলেকোঠায় ভাড়া থাকতেন। সেখানে থেকে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দূরসম্পর্কের আত্মীয়তার সূত্রে শান্ত পালের সঙ্গে দিয়ার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত রোববার ৪ অক্টোবর সকালে কোচিংয়ে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন দিয়া।
পরে মোবাইল ফোনে ডেকে সহযোগী আনোয়ার হোসেনের সহায়তায় দিয়াকে সফিপুরে নিজের ভাড়া বাসায় নিয়ে যান শান্ত। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হলে একপর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দিয়াকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে শান্ত একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে দিয়ার মরদেহ ভালুকায় তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান।
পরিবারের সদস্যদের কাছে শান্ত দাবি করেন, হঠাৎ খিঁচুনি ওঠার পর হাসপাতালে নেওয়া হলে দিয়ার মৃত্যু হয়েছে। তবে তার অসংলগ্ন কথাবার্তায় স্বজনদের সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে নিহতের পোশাকে রক্ত দেখতে পান স্থানীয়রা।
পরে স্থানীয় লোকজন শান্তকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তিনি ধর্ষণের ঘটনা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। খবর পেয়ে ভালুকা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে কালিয়াকৈর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে শান্ত পালকে হেফাজতে নেয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা শিশির বণিক বাদী হয়ে শান্ত পাল ও তার সহযোগী আনোয়ার হোসেনকে আসামি করে কালিয়াকৈর থানায় হত্যা ও নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।
কালিয়াকৈর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম জানান, কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান আসামি শান্ত পালকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। মামলার অপর আসামি আনোয়ারকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।