সারাদেশ

৭ স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করা সেই রবিজুল মানবপাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৫, ০৮:১৮ পিএম

৭ স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করা সেই রবিজুল মানবপাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার
ছবি: সংগৃহীত

লিবিয়ায় ভালো চাকরির লোভ দেখিয়ে শতাধিক তরুণকে প্রতারণা ও মানবপাচারের ফাঁদে ফেলে আলোচনায় আসা কুষ্টিয়ার রবিজুল ইসলাম (৪২) অবশেষে পুলিশের জালে। রবিবার (২০ জুলাই) সকালে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রবিজুলের নাম এর আগেই শিরোনামে এসেছে ‘সাত স্ত্রী ও এক সংসার’ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে। এবার তার বিরুদ্ধে উঠেছে আরও ভয়ঙ্কর অভিযোগ—আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সদস্য হিসেবে তরুণদের লিবিয়ায় পাঠিয়ে তাদের বন্দি করে নির্যাতন, মুক্তিপণ আদায় এবং কোটি টাকার প্রতারণা।

কুষ্টিয়ার তানজির শেখ (২২) এই চক্রের অন্যতম শিকার। রবিজুলের প্রলোভনে লিবিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানে পৌঁছেই তাকে মাফিয়া চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় নারকীয় নির্যাতন। নয় মাস ধরে টর্চার সেলে বন্দি থেকে দিনের পর দিন লোহার রড ও লাঠির পেটান খেয়েছেন তানজির। পরিবারকে বিবস্ত্র অবস্থায় মারধরের ভিডিও পাঠিয়ে আদায় করা হয়েছে ৩৪ লাখ টাকার মুক্তিপণ।

robijul1_Dhakaprokash.jpg

তানজির বলেন, “রবিজুল আমাকে পাঠিয়েছিল ভালো চাকরির জন্য, কিন্তু সে আমাকে বিক্রি করে দিয়েছে। আমি বেঁচে ফিরেছি অলৌকিকভাবে।”

ইবি থানা পুলিশের তথ্যমতে, শুধু তানজির নন, কমপক্ষে ৬০-৭০ জন মানুষকে একই কায়দায় প্রতারণা করেছেন রবিজুল। প্রত্যেকের কাছ থেকেই নেওয়া হয়েছে লাখ লাখ টাকা। অনেকেরই সন্তানের খোঁজ মিলেনি আজও। গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে রবিবার সকাল থেকে ভুক্তভোগীদের পরিবারের ভিড় জমে ইবি থানায়।

কুষ্টিয়ার এক ভুক্তভোগী মাহাবুল আলম জানান, তার ভাগিনা আসিফকে ১৫.৫ লাখ টাকায় ইতালি পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে চলে টর্চার ও মুক্তিপণ আদায়ের নাটক।

গ্রেপ্তারকৃত রবিজুল কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ি গ্রামের আয়নাল মণ্ডলের ছেলে। ১৫ বছর লিবিয়ায় বসবাস করেছেন তিনি। সেখানেই গড়ে তোলেন এক মানবপাচার সিন্ডিকেটের নেটওয়ার্ক। দেশে ফিরে একে একে সাতটি বিয়ে করেন এবং প্রতিটি স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে একই বাড়িতে বসবাস করে আলোচনায় আসেন।

তার বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, কুমারখালী ও আলমডাঙ্গা থানায় মানবপাচার ও প্রতারণার একাধিক মামলা রয়েছে।

তানজিরের ভাষ্যমতে, লিবিয়ার মাফিয়া আলী ও ওসামার সঙ্গে সরাসরি কাজ করে রবিজুল। তাদের এই চক্রে অন্তত ১৫-২০ জন সদস্য রয়েছে, যার মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশি। পরিচিত কয়েকজনের নাম—পিচ্চি সোহেল (মাদারীপুর), শরীয়তপুরের রায়হান এবং সিলেটের কাওসার। এরা সবাই মানবপাচার সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য।

ইবি থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, “রবিজুল একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার ও প্রতারণা চক্রের সক্রিয় সদস্য। তার বিরুদ্ধে আমরা একাধিক মামলা পেয়েছি। সব অভিযোগ যাচাই করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”