সারাদেশ

হত্যার পর মেয়ের বস্তাবন্দি লাশ মোটরসাইকেলে নিয়ে ঘুরছিলেন বাবা, লোমহর্ষক বর্ণনা


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম

হত্যার পর মেয়ের বস্তাবন্দি লাশ মোটরসাইকেলে নিয়ে ঘুরছিলেন বাবা, লোমহর্ষক বর্ণনা
ছবি: সংগৃহীত

খুলনায় ১৬ বছর বয়সী কিশোরী নির্জনা হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে বাবার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে। রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১–এর বিচারক মো. আসাদুর জামানের কাছে বাবা আকাশ এই জবানবন্দি দেন। পারিবারিক কলহের জেরে মেয়েকে হত্যার পর মরদেহ বস্তায় ভরে মোটরসাইকেলে করে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরির বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন।

এর আগে, গত ১০ জুলাই নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমাও আদালতে একই ঘটনায় নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেছিলেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ১৮ জুলাই ডুমুরিয়া উপজেলার একটি দোকান থেকে আকাশকে যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দেন এবং আদালতে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জবানবন্দি অনুযায়ী, ৮ জুলাই সকালে নির্জনা তার স্বামীর সঙ্গে চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে ফিরিয়ে আনেন। পরে বিকেলে মা সীমার সঙ্গে তার তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ধস্তাধস্তির মধ্যে আকাশ মেয়েকে শাসন করতে গিয়ে কাঠের একটি বস্তু দিয়ে আঘাত করেন, যা দুর্ঘটনাবশত তার মাথায় লাগে। এরপর তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তারা।

ঘটনার পর মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে আকাশ মেয়ের শরীর লুঙ্গি দিয়ে বেঁধে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে বাড়ি থেকে নিচে নামান। পরে মোটরসাইকেলে করে শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে থাকেন, কোথায় মরদেহ ফেলা হবে তা নির্ধারণ করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত শহরতলির প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি নির্জন সড়কে বস্তাবন্দি লাশ ফেলে দেন। পরে বাসায় ফিরে রক্তের দাগ মুছে ফেলেন তারা এবং পরদিন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রথমদিকে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের পর নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এমনকি বিশেষায়িত তদন্ত সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সূত্র পাওয়া যায়নি। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি প্রকাশের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

তিনি আরও জানান, তদন্ত চলাকালে নিহতের মা-বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করা না গেলে সন্দেহ আরও জোরালো হয়। পরবর্তীতে প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে মা সীমাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন। পরে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং কয়েকদিন পর বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এই নৃশংস ঘটনার পর খুলনা মহানগরজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর থেকেই জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর ছিল।