সারাদেশ
নবদম্পতির বনিবনা না হওয়ায় ঘটককে গাছে বেঁধে নির্যাতন
বিয়ের পর নবদম্পতির দাম্পত্য কলহের দায় একঘরে চাপিয়ে এক ঘটককে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলায়। ঘটকালির উপহার দেয়ার কথা বলে কৌশলে ডেকে এনে ঘটককে বেঁধে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বর্তমানে তিনি বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নির্যাতনের শিকার ওই ঘটকের নাম মজিবর শেখ (৬৫)। তিনি শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের ওমরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। গত ১৮ জুন রোববার সন্ধ্যায় একই ইউনিয়নের সূত্রাপুর গোয়ালপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মজিবরের ছোট ভাই নজরুল শেখ চারজনের বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সাজিদ হাসান সিদ্দিকী জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় মজিবর শেখকে রোববার রাতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ জুন সূত্রাপুর গোয়ালপাড়া গ্রামের জহুরুল ইসলামের মেয়ে সুমাইয়া খাতুনের (২১) সঙ্গে শাজাহানপুর উপজেলার ঘাসুরিয়া গ্রামের মো. মুন্না (২৮) নামে এক যুবকের বিয়ে হয়। এ বিয়ের ঘটক ছিলেন মজিবর শেখ। বিয়ের দিনই আনুষ্ঠানিকভাবে কনে সুমাইয়াকে তার শ্বশুরবাড়িতে পাঠানো হয়।
হাসপাতেলের শয্যায় শুয়ে মজিবর শেখ বলেন, রোববার সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে জহুরুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা তাকে লুঙ্গি উপহারের কথা বলে বাড়িতে ডেকে নেয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তারা অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকে জামাই ও মেয়ের মধ্যে বনিবনা হচ্ছে না। এরপরই তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে স্যান্ডেল ও গরুর গোবর দিয়ে লাঠিপেটা করা হয়। টানা এক ঘণ্টা ধরে চলা এই নির্যাতনে তার হাত-পা ও মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। পরে তার ছোট ভাই নজরুল শেখ গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার বিষয়ে কনের বাবা জহুরুল ইসলাম জানান, বিয়ের দুইদিন পর থেকেই মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন খারাপ আচরণ করতে শুরু করে। অথচ বিয়ের আগে ঘটক মজিবর শেখ জানিয়েছিলেন, বর ও তার পরিবার অত্যন্ত ভালো। সেই কথা বিশ্বাস করেই মেয়ের বিয়ে দেন। এই প্রতারণায় ক্ষুব্ধ হয়ে পরিবারের লোকজন তাকে মারধর করেছেন বলে স্বীকার করেন তিনি।
এদিকে মজিবরের ছেলে মো. সোনাউল্লাহ শেখ বলেন, তার বাবা কোনো পেশাদার ঘটক নন। তিনি কোনো পারিশ্রমিকও নেননি। উপহারের কথা বলে ডেকে নিয়ে গিয়ে যেভাবে নৃশংসভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, তা চরম অমানবিক।
শেরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তোফাজ্জল হোসেন জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মারধরের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। স্থানীয়রা এমন অমানবিক আচরণের নিন্দা জানিয়েছেন এবং দোষীদের শাস্তির দাবি করেছেন।