সারাদেশ

মানবতা না প্রটোকল—রেলওয়ের দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে বিতর্ক


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০২৫, ১০:০৪ পিএম

মানবতা না প্রটোকল—রেলওয়ের দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে বিতর্ক
ছবি: সংগৃহীত

প্রচণ্ড জ্বর, মাথা ঘোরা আর ক্লান্ত শরীর নিয়েও দায়িত্ব ফেলে রাখেননি বাংলাদেশ রেলওয়ের মাঠ পর্যায়ের কর্মী মো. হিরোন খান। উপদেষ্টা সফরের ট্রেন নির্বিঘ্নে চলুক—এই ‘উচ্চমহলের নির্দেশনা’ মানতে গিয়ে অসুস্থ শরীর নিয়েই দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে তাকে। শেষ পর্যন্ত সেই ক্লান্ত শরীর রেললাইনের পাশে পড়ে গেছে—আর এখন হাসপাতালের বিছানায় চিকিৎসাধীন এই কর্মী।

ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই)। জানা গেছে, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের সফরের অংশ হিসেবে তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনটি জামালপুর হয়ে যাচ্ছিল। সেই ট্রেন চলাচলে যেন কোনো সমস্যা না হয়, সেজন্য নির্ধারিত পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছিলেন মো. হিরোন খান।

তীব্র জ্বর আর দুর্বল শরীর নিয়েও উপদেষ্টার ট্রেন পাস না হওয়া পর্যন্ত রেললাইনের পাশে অপেক্ষা করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ক্লান্ত হয়ে মাটিতে বসে যান, কলাপাতা বিছিয়ে শুয়ে পড়েন। ট্রেনটি পেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর তিনি ঢাকামুখী ট্রেনে উঠে কোনোমতে পৌঁছান রেলওয়ে হাসপাতাল, যেখানে বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর হিরোন খান নিজেই ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন, যেখানে তিনি অসুস্থ অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকার একটি ছবি দিয়ে লেখেন, “প্রচণ্ড জ্বর, শরীর আর সহ্য করতে পারছে না, উপদেষ্টার ট্রেন পাস না করা পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকতে হলো।” তার এই পোস্টটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। শত শত মানুষ কমেন্টে ক্ষোভ, দুঃখ আর হতাশা প্রকাশ করেন।

railway1_Dhakaprokash.jpg

মো. হোসেন নামে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী লেখেন, “এটা কি ব্রিটিশ শাসনের বাংলাদেশ? একজন রেলশ্রমিক অসুস্থ হলে উপদেষ্টার ট্রেন বন্ধ হয়ে যেত? একজন মানুষ, রক্তে-মাংসে গড়া কর্মী এতটাই মূল্যহীন?”

ভাইরাল হওয়া স্ট্যাটাসে আরও অভিযোগ করা হয়, রেলের প্রকৌশল বিভাগে কর্মরত শ্রমিকদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হয় নিয়মিত, তাদের নেই কোনো সঠিক মূল্যায়ন বা সুরক্ষা।

“তেলবাজি করতে গিয়ে রেলের কর্মকর্তারা মানবতাকেই বিসর্জন দিয়েছেন”—এমন কথাও উঠে এসেছে তার পোস্টে।

এই ঘটনার পর সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—রেলের গুরুত্বপূর্ণ সফরের জন্য কি একজন মানুষকে তার জীবন ও স্বাস্থ্যের ঝুঁকিতে ফেলে দিতে হবে? দায়িত্বে থাকা একজন শ্রমিক অসুস্থ হলেও কেন তাকে ছুটি বা বিকল্প ব্যবস্থা দেওয়া হয়নি?

গফরগাঁও সেকশনের এই ঘটনায় পিডব্লিউ গফরগাঁও, এইএন, ডিএন-১ ঢাকা, ডিআরএম, চিফ ইঞ্জিনিয়ার (পূর্ব) থেকে শুরু করে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক পর্যন্ত কেউ এখনো কোনো মন্তব্য করেননি। প্রশাসনের এমন নীরবতায় ক্ষোভ আরও বাড়ছে।

এদিকে আজ শনিবার (৫ জুলাই) হিরোন খান তার এক ফেসবুক পোস্টে জানান, “কমলাপুর রেলওয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছি। শরীর ভালো যাচ্ছে না, খাওয়া-দাওয়া করতে পারছি না।”