সারাদেশ
অর্থের বিনিময়ে ২২ কোটি টাকার খয়রাতি চাল আত্মসাৎ মামলার মূল আসামিদের নাম কর্তন: ক্ষোভে গণস্বাক্ষর গোবিন্দগঞ্জে
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে বরাদ্দ দেওয়া ২২ কোটি টাকার খয়রাতি চাল (জিআর) আত্মসাৎ মামলার চার্জশিট থেকে মূল আসামিদের নাম বাদ দেওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয় সচেতন মানুষ। ইতোমধ্যে তারা গণস্বাক্ষর কর্মসূচি চালু করেছেন।
২০১৬-১৭ অর্থবছরে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের অনুকূলে গোবিন্দগঞ্জে ৫,৮২৩ মেট্রিক টন জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। যার তৎকালীন বাজারমূল্য ছিল ২২ কোটি টাকার বেশি। অভিযোগ ওঠে—ভুয়া কাগজপত্র তৈরি, জাল স্বাক্ষর ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই বিপুল পরিমাণ চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়, রংপুর ২০১৭ সালের ১২ অক্টোবর (স্মারক নং- গাইবান্ধা/অনুঃ (তদন্ত-১)/৩০৮২৮) প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে এবং পরে বিষয়টি প্রধান কার্যালয়ে প্রেরণ করে। দুদকের কমিশন সভায় দায়মুক্তির সুপারিশ গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই তদন্তে ১৯টি পৃথক মামলার সুপারিশ করা হয়, যাতে ১৬ জন ইউপি চেয়ারম্যান, একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর, একজন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান (তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান) ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।
২০২১ সালের ২৬ আগস্ট দুদকের সহকারী পরিচালক হোসাইন শরীফ বাদী হয়ে মামলাটি (নথি নং- ০০.০১.৩২০০.৬৩৫.০১.০৩০.১৭) দায়ের করেন। পরে তদন্তও করেন তিনিই। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুদকের কিছু অসাধু কর্মকর্তা চার্জশিট থেকে মূল আসামিদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য অর্থ লেনদেন করেছেন। এদের মধ্যে পরিচালক জহুরুল হুদা, উপসহকারী পরিচালক (বর্তমানে উপপরিচালক) হোসেন শরীফসহ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গোবিন্দগঞ্জের স্থানীয়রা দাবি করছেন, ২২ কোটি টাকার চাল আত্মসাতের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল হান্নান, তৎকালীন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম, তৎকালীন সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুল আহাদ ও তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানরা। অভিযোগ অনুযায়ী, ২ হাজার ২৫৩টি ধর্মীয় সভার নামে ৫ হাজার ৮২৩ টন চাল বরাদ্দ দেখানো হলেও মাত্র তিন দিনে এসব চাল উত্তোলন দেখানো হয়, যা গোবিন্দগঞ্জের খাদ্যগুদামের ধারণক্ষমতার চেয়েও অনেক বেশি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মামলার চার্জশিটে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপির নাম অন্তর্ভুক্ত করে বাকিদের নাম বাদ দিয়ে আই ওয়াশ করা হয়েছে। তারা দাবি করছেন, তৎকালীন ইউএনও মো. আব্দুল হান্নানের মাধ্যমে দুদকের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের ৫ কোটি টাকার বেশি ঘুষ দেওয়া হয়েছে।
চার্জশিট থেকে মূল আসামিদের নাম বাদ যাওয়ায় গোবিন্দগঞ্জের সচেতন নাগরিকদের মধ্যে গণ আক্রোশ সৃষ্টি হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে স্থানীয় শিক্ষক, ব্যবসায়ী, আইনজীবী, সাংবাদিক, কৃষক, ছাত্রসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ২ হাজার ৯৪৫ জন সচেতন নাগরিক গণস্বাক্ষর দিয়ে মামলাটি পুনঃতদন্ত করে মূল আসামিদের অন্তর্ভুক্ত করা এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে আবেদন জানিয়েছেন।