সারাদেশ

উচ্চ শব্দে গানবাজনা বাজালে ঈদগাহ, মসজিদ ও কবরস্থানের সব কার্যকলাপ থেকে বয়কট, কুষ্টিয়ায় মাইকিং


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০১ পিএম

উচ্চ শব্দে গানবাজনা বাজালে ঈদগাহ, মসজিদ ও কবরস্থানের সব কার্যকলাপ থেকে বয়কট, কুষ্টিয়ায় মাইকিং
ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহ ইউনিয়নের বড় মাজগ্রামে সাউন্ড বক্স ও মাইকসেট ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে মাইকিং করে উচ্চ শব্দে গানবাজনা নিষিদ্ধের ঘোষণা দেওয়া হলেও, এ সিদ্ধান্ত নিয়ে গ্রামবাসীর একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দিনব্যাপী মাইকিং করে বড় মাজগ্রাম জামে মসজিদ কমিটি জানায়, মহল্লার কোনো বাড়িতে সাউন্ড বক্স বা মাইকসেট বাজানো হলে সংশ্লিষ্ট পরিবারকে সামাজিকভাবে বয়কট করা হবে। এমনকি মসজিদ, ঈদগাহ ও কবরস্থানের কার্যক্রম থেকেও তাদের বিরত রাখা হতে পারে বলে ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়।

মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা ওয়ালীউল্লাহ ফরিদী জানান, গত ২৭ মার্চ জুমার নামাজের পর কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার মতে, সম্প্রতি বিয়ে ও সুন্নতে খৎনার অনুষ্ঠানে উচ্চ শব্দে সাউন্ড বক্স ব্যবহারের কারণে নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত ও অসুস্থ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছিল।

মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ কুরবান আলী বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট স্থানে প্যান্ডেল করে অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি এক খৎনা অনুষ্ঠানে সাউন্ড বক্স বাজানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। জমারত আলী ও রুপা খাতুন দম্পতির বাড়িতে তাদের নাতির খৎনা উপলক্ষে গান বাজানো হলে মুসল্লিদের আপত্তি ওঠে। পরে বিষয়টি নিয়ে তর্কাতর্কি হলে পরদিন মসজিদ কমিটি বৈঠক করে এই সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রুপা খাতুন বলেন, তারা নামাজ ও আজানের সময় সাউন্ড বন্ধ রেখেছিলেন এবং শব্দও নিয়ন্ত্রিত ছিল। তার দাবি, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরেই বিষয়টি বড় করা হয়েছে।

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, দেশের প্রচলিত আইনে এভাবে গানবাজনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার সুযোগ নেই। শব্দদূষণ হলে তা নিয়ন্ত্রণ বা প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তারা।

কুমারখালীর সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কবি ও নাট্যকার লিটন আব্বাস এ ঘটনাকে বাড়াবাড়ি আখ্যা দিয়ে বলেন, ব্যক্তির স্বাধীনতার ওপর এ ধরনের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

অন্যদিকে, মসজিদ কমিটির সভাপতি আমির হোসেন বলেন, সব ধরনের গানবাজনা বন্ধ নয়, বরং উচ্চ শব্দে সাউন্ড বক্স ব্যবহারের বিরুদ্ধেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে মাইকিংয়ে কী প্রচার হয়েছে সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, দেশের প্রচলিত আইনে এভাবে গানবাজনা নিষিদ্ধ করার সুযোগ নেই।

জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।