সারাদেশ

বিরামপুরে প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে মানববন্ধন


নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম

বিরামপুরে প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে মানববন্ধন
ছবি: ঢাকাপ্রকাশ

বিরামপুরে প্রধান শিক্ষক মো. জুলফিকার মতিনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগে সর্বস্তরের এলাকাবাসী বিদ্যালয় মাঠে দাঁড়িয়ে তাঁর দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ১০টায় দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার বিনাইল ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এলাকার নারী, পুরুষ ও শিশুরা ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করেন। এ সময় তারা রামকৃষ্ণপুর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জুলফিকার মতিনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা এবং বিদ্যালয় ভবনের ভেতরে মাদকসেবীদের মাদক সেবনে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ এনে তার দ্রুত অপসারণের দাবিতে ফেটে পড়েন।

এ সময় শিক্ষার্থী অভিভাবক আবুল হোসেন, সৌরভ হোসেন, সাবেক ছাত্র ইমরান হোসেন রকি, সাবেক শিক্ষার্থী ইদ্রিস আলি, বিপ্লব হোসেন, আজিজার রহমানসহ আরও অনেকে অভিযোগ করে বলেন, প্রধান শিক্ষক জুলফিকার মতিন প্রায়ই স্কুলে অনুপস্থিত থাকেন। তিনি বিদ্যালয়ের দুটি পুকুরের ইজারার ১৪ লাখ টাকা দীর্ঘদিন ধরে আত্মসাৎ করে আসছেন। স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে বিদ্যালয় পরিচালনাসহ নানা অনিয়মের কারণে বিদ্যালয়টির শিক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে বলেও তারা দাবি করেন। মানববন্ধন শেষে উপস্থিত সবাই বিদ্যালয়ের মাঠে প্রধান শিক্ষকের দ্রুত অপসারণ দাবি করে প্রতিবাদ জানান।

সরেজমিনে বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য একটি টিউবওয়েল নেই। নেই শৌচাগারে পানির ব্যবস্থা। শ্রেণিকক্ষে ময়লা-আবর্জনার গন্ধে শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ। কিশোরী শিক্ষার্থীদের কমনরুমে বসার বেঞ্চ ভেঙে পড়ে রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষে একটি এসি, দুটি সিলিং ফ্যান ও একটি স্ট্যান্ড ফ্যান থাকলেও শিক্ষার্থীদের কক্ষের সিলিং ফ্যান অকেজো। শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত বইগুলোও সিঁড়ির নিচে ময়লা-আবর্জনার স্তূপে অগোছালো অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

ঘটনাস্থলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি ও বিনাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন কবির বাদশা বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এত অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয় আগে জানা ছিল না। মানববন্ধনে এসে বিষয়গুলো জানতে পেরেছি। তিনি এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন।

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক জুলফিকার মতিন বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি যা করেছেন, বিদ্যালয়ের উন্নয়নের স্বার্থে কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করেছেন। দুটি পুকুরের ইজারার টাকা বিদ্যালয়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা রয়েছে এবং তা বিদ্যালয়ের কাজেই ব্যয় করা হয়েছে।

এলাকার সর্বস্তরের সচেতন মহল রামকৃষ্ণপুর দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জুলফিকার মতিনের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ সরেজমিনে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।