সারাদেশ

উপজেলা পরিষদে জমা রাখা মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর লাখ টাকা উধাও


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬, ১১:২৬ এএম

উপজেলা পরিষদে জমা রাখা মানসিক ভারসাম্যহীন নারীর লাখ টাকা উধাও
ছবিঃ সংগৃহীত

মাগুরার মহম্মদপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীর কষ্ট করে জমানো প্রায় এক লাখ টাকা ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি ভবনের একটি খোলা কক্ষে দরজা লাগানোর জন্য মানুষের কাছ থেকে সহায়তা নিয়ে ওই অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। পরে নিজের ইচ্ছায় টাকাগুলো উপজেলা পরিষদে জমা দিলেও তা আর তার হাতে পৌঁছায়নি। এ ঘটনায় এক জনপ্রতিনিধি ও এক সরকারি কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবতী মিস্ত্রী।

জানা গেছে, উপজেলার মৃত আব্দুর রশিদের মেয়ে খুরশিদা বেগম দীর্ঘদিন ধরে ছেলেকে নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সম্প্রতি একটি খোলা প্রকোষ্ঠে আশ্রয় নেওয়ার পর সেখানে দরজা না থাকায় নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত সমস্যার মুখে পড়েন তিনি। পরে বিভিন্ন মানুষের সহায়তায় প্রায় এক লাখ টাকা সংগ্রহ করে গত ১০ জুন উপজেলা পরিষদের নাজিরখানায় জমা দেন এবং সেখানে একটি দরজা লাগানোর অনুরোধ জানান।

বিষয়টি জানার পর ইউএনও বেদবতী মিস্ত্রী তাকে একটি ঘর করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে টাকাগুলো ফেরত নিতে বলেন। তবে খুরশিদা বেগম টাকা না নিয়েই চলে গেলে স্থানীয় ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম ও উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলামকে ওই অর্থ তার হাতে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও তারা সেই দায়িত্ব পালন করেননি।

ঘটনা জানাজানি হলে গত ২৪ জুন ওই দুই ব্যক্তিকে শোকজ নোটিশ দেন ইউএনও। বেদবতী মিস্ত্রী বলেন, একজন অসহায় নারীর সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে, সন্তোষজনক জবাব না পেলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, একটি দরজা লাগানোর জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে টাকা জোগাড় করা এক অসহায় নারীর কষ্টার্জিত অর্থই যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে দায়িত্বশীলদের জবাবদিহি কোথায়?