সারাদেশ

টাঙ্গাইলে স্বর্ণ ও টাকার লোভে নাজমা হত্যা: পুলিশের কাছে মোয়াজ্জিনের স্বীকারোক্তি 


প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৯ এএম

টাঙ্গাইলে স্বর্ণ ও টাকার লোভে নাজমা হত্যা: পুলিশের কাছে মোয়াজ্জিনের স্বীকারোক্তি 
ছবিঃ ঢাকা প্রকাশ

টাঙ্গাইল পৌর শহরের বিশ্বাস বেতকার শিবনাথ পাড়া এলাকায় নিজ বাসা থেকে হাত-পা বাঁধা ও গলায় রশি পেঁচানো রক্তাক্ত অবস্থায় নাজমা আলম নাজু (৫১) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তার ভাড়াটিয়া ও স্থানীয় মসজিদের মোয়াজ্জিন মোশারফ হোসেন (৪২) এবং স্বর্ণ কারিগর সন্তোষ কর্মকার ( ৪৫) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারের পর তাদের টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (টাঙ্গাইল সদর সার্কেল) এইচ.এম. মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, স্থানীয় মসজিদের মোয়াজ্জিন মোশারফ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ঋণের চাপে ছিলেন। ঋণ থেকে মুক্তি পেতে তিনি তার বাড়িওয়ালা নাজমা আলম নাজুর স্বর্ণ ও টাকার ওপর নজর দেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত রবিবার সুযোগ বুঝে তিনি নাজমার ঘরে প্রবেশ করেন। আলমারি থেকে স্বর্ণ ও মূল্যবান মালামাল নেওয়ার সময় নাজমা তাকে দেখে ফেলেন।

এর পর নাজমার হাত ও গলা থেকে স্বর্ণ খুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে নাজমা বাধা দেন। ঘটনার সময় পরিচয় প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয়ে মোশারফ হোসেন তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এ সময় প্রমাণ নষ্ট করতে তিনি বাসার সিসি ক্যামেরা ভেঙে পার্শ্ববর্তী পুকুরে ফেলে দেন। পরে লুট করা স্বর্ণালংকার, একটি হাতুড়ি ও সিসি ক্যামেরার ডিভিআর নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচ.এম. মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী বলেন, চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রথমে স্বর্ণ কারিগর সন্তোষ কর্মকারকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত সোমবার ভাড়াটিয়া মোশারফ হোসেনকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোশারফ হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন।

তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পর লুট করে নিয়ে যাওয়া স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও ঘটনার অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত রবিবার (২৮ জুন) টাঙ্গাইল শহরের শিবনাথ পাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে হাত বাঁধা, গলায় রশি পেঁচানো রক্তাক্ত অবস্থায় নাজমা আলম নাজু (৫১) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নাজমা ওই এলাকার পশু চিকিৎসক শফিউল আলম শাহীনের স্ত্রী। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।