সারাদেশ

বরিশালে আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসী ও পুলিশের সংঘর্ষে আহত ১২


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম

বরিশালে আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসী ও পুলিশের সংঘর্ষে আহত ১২
ছবিঃ সংগৃহীত

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় থানা হেফাজতে থাকা এক আসামির মৃত্যুর গুজবকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও স্থানীয় গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৬ পুলিশ সদস্যসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (০৯ জুলাই) বিকেলে আগৈলঝাড়া থানা প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজ ফকিরকে একটি চুরির মামলায় বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, রাতে থানা হাজতে থাকা অবস্থায় তিনি নিজেই লোহার গেটের সঙ্গে মাথায় আঘাত করে অচেতন হয়ে পড়েন। থানা হাজতের সিসিটিভি ফুটেজেও এমন দৃশ্য দেখা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পরে রাত ১১টার দিকে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে গভীর রাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রিয়াজের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন ও স্থানীয় শতাধিক মানুষ মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় যান। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে।

পুলিশের ভাষ্য, বিক্ষুব্ধরা থানায় ঢুকে ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে মারধর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন রিয়াজের মা নাছরিন বেগম (৫০), বোন শারমিন আক্তার (২৮), মমতাজ বেগমসহ অন্তত ছয়জন স্থানীয় বাসিন্দা। পুলিশের আহত সদস্যরা হলেন এএসআই আব্দুল হালিম, কনস্টেবল লিমন মিয়া, ফরহাদ হোসেন, মনির হোসেন, আলামিন হোসেন ও মেহেদী হাসান।

গুরুতর আহত এএসআই আব্দুল হালিমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শারমিন আক্তার ও মমতাজ বেগম আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় আরও কয়েকজন আহত ব্যক্তি গোপনে চিকিৎসা নিয়েছেন।

ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

রিয়াজ ফকিরের মা নাছরিন বেগম অভিযোগ করেন, কোনো অপরাধ ছাড়াই তার ছেলেকে আটক করে পুলিশ মারধর করেছে। বর্তমানে তিনি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

তবে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ মাসুদ খান বলেন, চুরির মামলায় গ্রেপ্তারের পর থানা হাজতে রিয়াজ নিজেই মাথায় আঘাত করে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে পরিকল্পিতভাবে তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে শতাধিক ব্যক্তি থানায় হামলা চালিয়ে পুলিশ সদস্যদের মারধর করেন। হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।