সারাদেশ

রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত ডুবুরি সাদিকের দাফন সম্পন্ন, অশ্রুসিক্ত বিদায় 


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ১২:০১ পিএম

রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত ডুবুরি সাদিকের দাফন সম্পন্ন, অশ্রুসিক্ত বিদায় 
ছবিঃ সংগৃহীত

রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি সাদিক হোসেন শুভকে অশ্রুসিক্ত পরিবেশে শেষ বিদায় জানিয়েছেন স্বজন, সহকর্মী ও সর্বস্তরের মানুষ। 

গতকাল শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গোয়ালন্দ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কুমড়াকান্দি গ্রামে তার নিজ বাড়িতে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে ঢাকায় ফায়ার সার্ভিসের প্রধান কার্যালয়ে জুমার নামাজের পর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

নিহত সাদিক হোসেন শুভ (২৬) গোয়ালন্দ পৌরসভার কুমড়াকান্দি গ্রামের আশরাফ আলী শেখের ছেলে। দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন মেজো। তিনি নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনে প্রশিক্ষিত ডুবুরি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্মদক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি রাষ্ট্রীয় ফায়ার সার্ভিস পদক অর্জন করেন। পাশাপাশি গোয়ালন্দের ফুটবল অঙ্গনেও একজন দক্ষ গোলরক্ষক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জ শীতলক্ষ্যা নদীর ফায়ার ঘাট এলাকার একটি জেটির সামনে কচুরিপানা পরিষ্কারের সময় স্পিডবোট থেকে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন সাদিক। প্রায় আট ঘণ্টা তল্লাশির পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে কেরোসিন ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

ছেলের মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়েছেন সাদিকের মা। তিনি বলেন, ‘গতকাল ওর বাবার কাছে পাঁচ হাজার টাকা চেয়েছিল। তিন দিন আগে আমার সঙ্গে কথা হয়েছিল। সামনে সপ্তাহে বাড়িতে আসবে বলেছিল। আমার সোনার ছেলে এভাবে চলে যাবে, এটা আমি মানতে পারছি না। আমি আমার ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে চাই।’

গোয়ালন্দ ফুটবল একাডেমির চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, সাদিক ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ গোলরক্ষক এবং একজন নম্র, ভদ্র ও সৎ মানুষ। তার অকাল মৃত্যু গোয়ালন্দের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

নিহতের চাচা ও গোয়ালন্দ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মো. ফজলুল হক বলেন, জেটির সামনে কচুরিপানা পরিষ্কারের সময় ঢেউয়ের কারণে তিনি নদীতে পড়ে যান। দীর্ঘ আট ঘণ্টার অভিযানের পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মাত্র দুই বছর আগে বিয়ে করেছিলেন সাদিক। তার মৃত্যুতে পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘সাদিক একজন রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত প্রশিক্ষিত ডুবুরি। তার এভাবে নদীতে ডুবে মৃত্যু স্বাভাবিক বলে মনে হয় না। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি জানাচ্ছি।’

জানাজার আগে রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মাঠপর্যায়ের সদস্যরা অশ্রুসিক্ত চোখে সহকর্মী সাদিককে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

জানাজায় প্রশাসনের কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়ে সাহসী এই ডুবুরির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।