সারাদেশ
নাটোরে বাসে যাত্রী ওঠানো নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১০
নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস কাউন্টারে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় চারটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়েছে।
আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার বনপাড়া বাইপাস এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে বনপাড়া বাইপাস মোড়ে পাশাপাশি অবস্থিত বিআরটিসি কাউন্টার ও একটি লোকাল বাস কাউন্টারের কর্মচারীদের মধ্যে যাত্রী ওঠানো নিয়ে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। এর জেরে বুধবার দুপুরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য উভয় পক্ষ বসলে সেখানে আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, সংঘর্ষের একপর্যায়ে বিআরটিসি কাউন্টারের মালিক নয়ন, বনপাড়া পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন ও শাহিনের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি দল প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়। এতে বনপাড়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আক্তার হোসেন (৫৫), ১১ নম্বর ওয়ার্ডের আসলাম হোসেন (৪৭), ২ নম্বর ওয়ার্ড কৃষকদলের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন (৫০) এবং পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি হোসেন ফকির (৫০) গুরুতর আহত হন। এ সময় চারটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।
পরে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। গুরুতর আহত হোসেন ফকির ও আসলাম হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আক্তার হোসেন ও মমতাজ উদ্দিনকে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ওসি আরও জানান, বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।