সারাদেশ
স্ত্রীকে বন্ধুর সঙ্গে বিয়ে দিলেন স্বামী, ১১ দিন পর উদ্ধার ঝুলন্ত মরদেহ
যশোরের মনিরামপুরে স্ত্রীকে শৈশবের বন্ধুর সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার মাত্র ১১ দিন পর আব্দুল্লাহ মিথুন (২৮) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঘটনাটি ঘটেছে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার কাশিমনগর ইউনিয়নের মান্দারতলা এলাকায়। নিহত আব্দুল্লাহ মিথুন ওই এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্র ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে সাথী নামে এক নারীর সঙ্গে মিথুনের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ৬ ও ৪ বছর বয়সী দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মিথুনের প্রতিবেশী ও শৈশবের বন্ধু সুমন দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় ছিলেন। সম্প্রতি তিনি দেশে ফেরার পর মিথুনের স্ত্রী সাথীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় বলে জানা যায়। বিষয়টি জানতে পেরে মিথুন স্ত্রীকে ওই সম্পর্ক থেকে সরে আসার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে এতে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এরপর গত ১৬ সেপ্টেম্বর যশোরের নওয়াপাড়া এলাকার ধোপাদি এলাকায় একটি কাজী অফিসে সুমনের সঙ্গে সাথীর বিয়ে সম্পন্ন হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ওই বিয়েতে মিথুন নিজেই উপস্থিত ছিলেন এবং কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন। স্ত্রীকে নিজের শৈশবের বন্ধুর সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার পর থেকেই তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে পরিবার ও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে।
এরই মধ্যে ঘটনার দিন রাতে মিথুন ও সাথীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় বলে সাথীর দাবি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কথা কাটাকাটির পর মিথুন ঘরের আড়ার সঙ্গে গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।
তবে মিথুনের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা এই বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, মিথুন আত্মহত্যা করেননি; বরং তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে মনিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মিথুনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে মরদেহে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনোভাবে মৃত্যু হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় এলাকায় নানা আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে নিজের স্ত্রীকে বন্ধুর সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার মাত্র ১১ দিনের মাথায় মিথুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি করেছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বা হত্যাকাণ্ড-কোনোটিই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।