সারাদেশ

আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের তালিকায় চুয়াডাঙ্গার সাফিনের নাম


নিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৪ পিএম

আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের তালিকায় চুয়াডাঙ্গার সাফিনের নাম
ছবি: সংগৃহীত

‘শিশুদের নোবেল’ খ্যাত আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার ২০২৬-এর ‘শিশুশ্রম’ ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ থেকে মনোনীতদের তালিকায় আমিও স্থান পেয়েছি।


এই স্বীকৃতি আমাকে আরও অনুপ্রাণিত করবে শিশুশ্রম বন্ধ, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে কাজ করে যেতে। 


সবার দোয়া ও ভালোবাসা কামনা করছি।"


শিশু অধিকার, শিশুশ্রম প্রতিরোধ ও শিক্ষার অধিকার নিয়ে কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ 

আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের মনোনীত তালিকায় জায়গা পাওয়া  ইবনে ইউসুফ আল সাফিন নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে এভাবেই অনুভূতি ব্যক্ত করেছেন।


শিশু অধিকার, শিশুশ্রম প্রতিরোধ, শিশু সুরক্ষা ও শিক্ষার অধিকার নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের (International Children’s Peace Prize) মনোনীতদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন চুয়াডাঙ্গার তরুণ শিশু অধিকারকর্মী ও সংগঠক ইবনে ইউসুফ আল সাফিন। শিশুশ্রম প্রতিরোধ বিভাগে তাঁর কাজকে বিবেচনায় নিয়ে এ মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।


চুয়াডাঙ্গার ভিক্টোরিয়া জুবিলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ইবনে ইউসুফ আল সাফিন বর্তমানে ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে শিশু অধিকার, শিশু সুরক্ষা ও সামাজিক সচেতনতা তৈরির বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে যুব সংগঠন, বিতর্কচর্চা ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে।


২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের শিশুশ্রম প্রতিরোধ বিভাগে সাফিনের বিভিন্ন কার্যক্রমকে বিবেচনা করা হয়েছে। পুরস্কারটির আয়োজক কিডসরাইটস (KidsRights)-এর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাঁর মনোনয়নদাতা মো. সাইফুল্লাহ আল সাদিক। ২০২৬ সালের মনোনীতদের তালিকায় ইবনে ইউসুফ আল সাফিনের নাম রয়েছে।


শিশুশ্রম প্রতিরোধ ও শিশু অধিকার রক্ষায় সাফিনের কাজের মধ্যে রয়েছে শিশু অধিকার ও শিশু সুরক্ষা বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া প্রতিরোধে আলোচনা ও সচেতনতামূলক সেশন আয়োজন, অভিভাবক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সচেতনতা কার্যক্রম এবং সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিশুদের শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে উৎসাহিত করা।


শিশুদের অধিকার ও নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করতে গিয়ে তিনি জাতীয় শিশু টাস্কফোর্স (এনসিটিএফ), চুয়াডাঙ্গা জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ দায়িত্বের মাধ্যমে শিশু অধিকার, শিশুশ্রম ও শিশু সুরক্ষা নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন তিনি।


এ ছাড়া ডিবেট ক্লাব অব চুয়াডাঙ্গার সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে বিতর্কচর্চা ও তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশে কাজ করছেন সাফিন। তরুণদের যুক্তিবোধ, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও তিনি বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।


সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ডেও রয়েছে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ। তিনি ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ-এর চুয়াডাঙ্গা জেলা বোর্ডের কোষাধ্যক্ষ এবং বাংলাদেশ জাতিসংঘ যুব ও শিক্ষার্থী সমিতির সহযোগী সদস্য হিসেবে যুব ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।


স্থানীয় পর্যায়ে শিশুদের অধিকার ও শিক্ষার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও যুব উদ্যোগে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে সাফিন শিশুদের নিরাপদ শৈশব, শিক্ষার অধিকার এবং মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর এ ধরনের কার্যক্রমের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কারের মনোনীতদের তালিকায় স্থান পাওয়া চুয়াডাঙ্গার জন্যও গর্বের বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার শিশুদের অধিকার রক্ষা এবং শিশুদের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ করা তরুণদের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি উদ্যোগ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিশু ও তরুণদের মানবাধিকার, শিক্ষা, শান্তি, শিশু সুরক্ষা এবং সামাজিক পরিবর্তনে অবদানের জন্য এ পুরস্কারের মাধ্যমে সম্মানিত করা হয়। গণমাধ্যমে পুরস্কারটি অনেক সময় ‘শিশুদের নোবেল’ হিসেবে পরিচিত।