সারাদেশ
সৌদিতে অগ্নিকাণ্ড: একসঙ্গে বিয়ের কথা ছিল, কিন্তু একসঙ্গে ফিরছেন লাশ হয়ে
“একসঙ্গে দেশে এসে বিয়ে করবো” প্রবাসে থাকা দুই ভাইয়ের সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। সৌদি আরবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়ে একসঙ্গেই মরদেহ হয়ে ফিরছেন নওগাঁর মোহন প্রামাণিক ও সুমন প্রামাণিক।
প্রবাস থেকে শেষবার ভিডিও কলে নানির সঙ্গে কথা বলার সময় তারা বলেছিলেন, দেশে ফিরে একসঙ্গে বিয়ে করবেন, পরিবারকে নিয়ে আনন্দে সময় কাটাবেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্নই এখন শোকের স্মৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মোহন ও সুমনসহ মোট ১৬ জন প্রবাসী শ্রমিক নিহত হন। তাদের মধ্যে ১৩ জনই নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। নিহতরা গন্ডগোহালি, ডুবাই, বৈঠাখালি, খনজোর, পারকাসুন্দা ও দিঘিরপাড় গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা গেছে আত্রাই উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের গন্ডগোহালি গ্রামে। একসঙ্গে দুই সন্তানকে হারিয়ে শোকাহত পরিবারটি এখন দিশেহারা। মা বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন, আর নানি সায়রা বেগম দুই নাতির স্মৃতি মনে করে বিলাপ করছেন।
স্বজনরা জানান, সংসারের অভাব দূর করতে বড় ভাই মোহন প্রথমে সৌদি আরবে যান। পরে ছোট ভাই সুমনকেও সেখানে নিয়ে যান। দুই ভাই মিলে কঠোর পরিশ্রম করে দেশে নতুন বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেছিলেন। পরিকল্পনা ছিল, বাড়ির কাজ শেষ হলেই একসঙ্গে দেশে ফিরে বিয়ে করবেন এবং পরিবারের সঙ্গে সুখে জীবন কাটাবেন। কিন্তু হঠাৎ আগুনে সব স্বপ্ন ভেঙে যায়।
সন্তানদের হারিয়ে বাকরুদ্ধ বাবা গুফফার প্রামাণিক সরকারের কাছে আকুতি জানিয়ে বলেন, নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হোক।
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানানো হয়েছে। তাদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করা হবে।