সারাদেশ
হবিগঞ্জে বাস-পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৩
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পিকআপ ভ্যানের চালকসহ আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নবীগঞ্জ উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের রোকনপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের কারখানা গ্রামের সুফি মিয়ার ছেলে ও ইনাতগঞ্জ বাজারের সবজি ব্যবসায়ী মশহুদ আহাম্মদ (৪০), ইনাতগঞ্জ দক্ষিণ গ্রামের ময়না মিয়ার ছেলে সবজি ব্যবসায়ী আবুল কাশেম (৫০) এবং ইনাতগঞ্জ বাজারের ফাহিম সবজি ভান্ডারের কর্মচারী ময়না মিয়া (৩০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে ইনাতগঞ্জ বাজারের কয়েকজন সবজি ব্যবসায়ী ও কর্মচারী একটি পিকআপ ভ্যানে করে বাহুবল উপজেলার দিগাম্বর বাজারে কাঁচামাল সংগ্রহের জন্য যাচ্ছিলেন। পথে রোকনপুর এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা লাকি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে পিকআপ ভ্যানটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এতে পিকআপ ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ভ্যানটিতে থাকা কয়েকজন গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। ঘটনাস্থলেই মশহুদ আহাম্মদ মারা যান।
পরে গুরুতর আহত পিকআপ ভ্যানের চালকসহ চারজনকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে আবুল কাশেম ও ময়না মিয়া মারা যান। বর্তমানে পিকআপ ভ্যানের চালকসহ আরও দুইজন গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শেরপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও পিকআপ ভ্যান সরিয়ে নেয়। এতে মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি পরে আউশকান্দি এলাকায় আটক করা হয়। বাস ও পিকআপ ভ্যানটি হাইওয়ে থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
শেরপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক মো. জসিম উদ্দিন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বাস ও পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে একজন নিহত হন। পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।