ক্যাম্পাস
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশনা প্রত্যাখ্যান, বিক্ষোভ
বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা এবং শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশনা প্রত্যাখান করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১০ টায় বিভিন্ন হল থেকে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের কে আর মার্কেটে এসে জড়ো হন। এসময় শিক্ষার্থীরা 'রাজপথ ছাড়ি নাই', 'রাজপথ ছাড়বো না', 'প্রশাসনের গদিতে আগুন জ্বালো একসাথে'সহ বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে শত শত শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণ করেছে। অন্যদিকে, এরই মাঝে হল ত্যাগ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশকিছু নারী শিক্ষার্থী। নিরাপত্তাজনিত কারণেই তারা হলত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।
এসময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাকৃবির শিক্ষার্থী বলেন, কিছু হলেই হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়, এই হল-বিশ্ববিদ্যালয় কি তাদের পৈতৃক সম্পত্তি। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বহিরাগতদের হামলার বিচার না করে আবার হল ছাড়ার ফন্দি করলে সেটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।ভয়-ভীতি দেখিয়ে আন্দোলন থামানো যাবে না। যতক্ষণ না দাবি মেনে নেওয়া হচ্ছে, আমাদের আন্দোলন চলবে।
পরবর্তীতে বেলা সাড়ে ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় সংবাদ সম্মেলনে ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ৬ দফা দাবি হলো-
১. অবৈধভাবে হল ভ্যাকেন্টের নির্দেশনা দুপুর ২ টার মধ্যে প্রত্যাহার করে আদেশ তুলে নিতে হবে।
২. হলগুলোতে চলমান সব ধরনের সুবিধা নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে হবে।
৩. এই প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের উপর শিক্ষকদের মদদে বহিরাগত দিয়ে হামলার দায়ে প্রক্টোরিয়াল বডিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে।
৪. বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দ্বারা ককটেল বিস্ফোরণ, লাইব্রেরি ও স্থাপনা ভাঙচুর এবং দেশীয় অস্ত্র দ্বারা শিক্ষার্থীদের উপর হামলা এবং নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্তার ঘটনার জন্য উপাচার্যকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
৫. হামলার সাথে জড়িত শিক্ষকবৃন্দ: কৃষি অনুষদের আসাদুজ্জামান সরকার স্যার, তোফাজ্জল স্যার, শরীফ আর রাফি স্যার, কামরুজ্জামান স্যার, পশুপালন অনুষদের বজলুর রহমান মোল্যা স্যার, জেনেটিক্সের মুনির স্যার, ডেইরি বিজ্ঞান বিভাগের আশিকুর রহমান স্যার এবং বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
৬. গত ১ মাস ধরে চলমান যে একক কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবিতে আন্দোলন করে আসছি, সেই একক ডিগ্রি অবিলম্বে প্রদান করতে হবে। তিনটি ভিন্ন ডিগ্রি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।