ক্যাম্পাস
ডাকসু নির্বাচনে ব্যয় ১ কোটি ৭ লাখ টাকা, আগের তুলনায় সাড়ে তিনগুণ বৃদ্ধি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ৯ সেপ্টেম্বর। বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব পরিচালকের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ৪১টি খাতে এই বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হয়েছে ব্যালট পেপার মুদ্রণ, স্ক্যানিং ও ফলাফল প্রস্তুত খাতে-এর পরিমাণ ২৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সভা আয়োজন বাবদ খরচ হয়েছে ৬ লাখ ৭২ হাজার টাকা, আর পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনায় চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য ব্যয় করা হয়েছে ৬ লাখ ১৪ হাজার টাকা।
এ ছাড়া ১৮টি হলে দায়িত্ব পালনকারী ৩৬ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ২৬৬ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার জন্য ব্যয় হয়েছে ১১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। ব্যালট বক্স কেনা ও মেরামতে ব্যয় হয়েছে আরও ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
উপাচার্য ও প্রক্টর দপ্তরের সভা ও আপ্যায়ন খাতে ব্যয় হয়েছে ৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা, আর সিসি ক্যামেরা ভাড়া ও হার্ডডিস্ক কেনায় ব্যয় হয়েছে ৫ লাখ ২ হাজার টাকা।
২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে ব্যয় ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক কম। তখন ব্যালট পেপার ডিজাইন, সরবরাহ ও স্ক্যানিংয়ে ব্যয় হয়েছিল ১২ লাখ ৮২ হাজার টাকা, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সভা খরচ ছিল ২ লাখ টাকা, আর উপাচার্য-প্রক্টর দপ্তরের সভা ও আপ্যায়নে ব্যয় হয়েছিল মাত্র ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা।
অর্থাৎ এবার একই ধরনের খাতে ব্যয় বেড়েছে তিন থেকে চারগুণেরও বেশি।
ব্যয়ের পরিমাণ কেন এত বেড়েছে, জানতে চাইলে চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক জসীম উদ্দিন বলেন, “এখানে যে ব্যয়ের হিসাব দেওয়া হয়েছে, সেখানে অনেক খাত একত্রে অন্তর্ভুক্ত আছে। তাই মোট ব্যয় নিয়ে এখনই মন্তব্য করব না। বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরে বিস্তারিত বলা যাবে।”
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব পরিচালক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, “ডাকসুর জন্য প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৬০ টাকা করে ফি নেওয়া হয়। পাঁচ বছরে এ খাতে মোট আয় হয়েছে প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এবারের নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থের প্রায় ৯২ দশমিক ৫ শতাংশই ব্যয় হয়েছে।”