ক্যাম্পাস
মুহসীন হলের মাঠ সংস্কারের আশ্বাস প্রতিমন্ত্রী টুকুর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের মাঠের বেহাল দশা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। মাঠটি সংস্কারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও হলের প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (তারিখ) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল মাঠে হল শাখা ছাত্রদল আয়োজিত ‘মুহসীন হল আন্তঃব্যাচ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, মুহসীন হল তার কাছে আবেগ ও স্মৃতির সঙ্গে জড়িত একটি জায়গা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর তিনি প্রথম এই হলেই উঠেছিলেন এবং সেখান থেকেই রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন বলে জানান তিনি।
মুহসীন হলের মাঠের বর্তমান অবস্থা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাঠটি সংস্কারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও হলের প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। প্রয়োজনীয় উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি।
এ সময় দেশে মাদকের বিস্তার নিয়েও কথা বলেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে কোনো মাদকের কারখানা নেই এবং আশপাশের দেশগুলো পরিকল্পিতভাবে মাদকের মাধ্যমে বাংলাদেশের যুবসমাজকে ধ্বংস করতে চায়।
শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে ধারণ করে তরুণ প্রজন্মকে দেশের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে। দেশপ্রেমকে বুকে ধারণ করে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে বাংলাদেশ আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসেবে বিশ্বদরবারে আরও পরিচিতি লাভ করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শুধু পড়াশোনা ও চাকরি পাওয়ার মধ্যে নিজেদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রাখার আহ্বান জানান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘চব্বিশের বাস্তবতার পরবর্তী সময়েও আমি মনে করেছিলাম, বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াঙ্গনে পরিবর্তন আসবে। কিন্তু তা সেভাবে হয়নি।’ তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তরুণ প্রজন্ম বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় কাটাচ্ছে। অথচ ইউরোপ ও আমেরিকার উন্নত দেশগুলোতে তরুণদের মানসিক বিকাশে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশ আরও জোরদার করা প্রয়োজন। এতে শিক্ষার্থীদের শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি মানসিক ও মানবিক বিকাশও ঘটবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ছাত্রদল সভাপতি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু পড়াশোনা শেষ করে একটি চাকরি পাওয়ার উদ্দেশ্যে আসা নয়; নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি সমাজ ও দেশের জন্যও অবদান রাখার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের অনুজদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং মানুষের কল্যাণে যুক্ত হতে উৎসাহিত করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষা ও চাকরির বাইরেও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে মুহসীন হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। পরে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।