রাজধানী

হাসিনাকে খুঁজতে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় হারানো বিজ্ঞপ্তির মাইকিং


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর ২০২৫, ০২:১৯ পিএম

হাসিনাকে খুঁজতে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় হারানো বিজ্ঞপ্তির মাইকিং
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এলাকায় সোমবার সকাল থেকে শোনা যায় এক অস্বাভাবিক মাইকিং।

হারানো মানুষ খোঁজার প্রচারণার মতো স্বরে বলা হচ্ছিল- “একটি হারানো বিজ্ঞপ্তি… আমাদের হাসিনা খালা (শেখ হাসিনা) গত ৫ আগস্ট সপরিবারে হারিয়ে গেছেন। কেউ তার সন্ধান পেলে তাকে হাইকোর্টের ফাঁসির মঞ্চে পৌঁছে দেবেন। একটি হারানো বিজ্ঞপ্তি… একটি হারানো বিজ্ঞপ্তি…”

অস্বাভাবিক এই মাইকিং আদালত এলাকাজুড়ে কৌতূহল ও উত্তেজনার সৃষ্টি করে।

শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার দিন হওয়ায় সকাল থেকেই ট্রাইব্যুনাল চত্বর জনসমাগমে ভরে ওঠে। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আদালত এলাকায় জড়ো হয়ে অপেক্ষা করছিলেন বহুল আলোচিত মামলার রায়ের জন্য। একই সঙ্গে নেয়া হয় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়।

তবে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও রাজধানীতে যান চলাচল ছিল স্বাভাবিক। ব্যক্তিগত গাড়ির পাশাপাশি গণপরিবহনও সচল ছিল। আওয়ামী লীগের ঘোষিত লকডাউন কর্মসূচির কোনো প্রভাবই দেখা যায়নি। অন্যদিকে জামায়াতসহ আটটি ইসলামিক দল রায় ঘিরে নিজ নিজ অবস্থানে মাঠে থাকার কথা জানিয়েছিল।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণবিক্ষোভে প্রায় এক হাজার ৪০০ মানুষ নিহত এবং প্রায় ২৫ হাজার আহত হওয়ার অভিযোগে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। গত ১৩ নভেম্বর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেন।

মামলায় পাঁচটি অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। বিচার প্রক্রিয়ায় মোট ৫৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত অডিও, ভিডিওসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়। মামলার অন্যতম আসামি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন রাজসাক্ষী হয়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করে অন্যান্য আসামির ভূমিকার বিস্তারিত বর্ণনা দেন।

সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন- আহত আন্দোলনকারী, নিহতদের স্বজন, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাদের জবানবন্দিতে সেদিনের ভয়াবহ পরিস্থিতির চিত্র উঠে আসে-গোলাগুলি, আহতের স্রোত, হাসপাতালে বিভীষিকাময় দৃশ্য এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত বল প্রয়োগের অভিযোগ।

রায় ঘোষণার তারিখ ঘিরে গত কয়েকদিন ধরেই দেশের বিভিন্ন স্থানে উত্তপ্ত পরিবেশ বিরাজ করছিল। বিভিন্ন জেলায় অর্ধশতাধিক গাড়িতে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ছিল। ট্রাইব্যুনাল এলাকায় ছিল বহুস্তর নিরাপত্তা বেষ্টনী।

রায় ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠলেও আদালত চত্বরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরাপত্তাবাহিনীর প্রচেষ্টা এবং সার্বিক প্রস্তুতি নজরে আসে স্পষ্টভাবে।