রাজধানী

হিন্দুস্তান বাংলাদেশের ফুলকেও ভয় পায়: রাশেদ প্রধান


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:২৭ পিএম

হিন্দুস্তান বাংলাদেশের ফুলকেও ভয় পায়: রাশেদ প্রধান
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-এর সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেছেন, “হিন্দুস্তান এখন বাংলাদেশের ফুলকেও ভয় পায়।” ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসনের প্রতিবাদ জানাতে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসে ঘৃণা প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে গেলে পুলিশ তাঁকে বাধা দেয়-এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকালে ওসমান হাদীকে গুলি করার স্থান পল্টন বক্স কালভার্ট রোড থেকে একা পায়ে হেঁটে গুলশানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন রাশেদ প্রধান। তাঁর সঙ্গে ছিল একটি কালো গোলাপ, যা তিনি রাজনৈতিক ভাষায় কর্তৃত্ববাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে দূতাবাসে দিতে চেয়েছিলেন।

রাশেদ প্রধান বলেন, “অতীতে একাধিকবার মিছিল নিয়ে ভারতীয় দূতাবাসে যেতে চেয়েছি, তখন পুলিশ বাধা দিয়েছে। তাই এবার দেশের মানুষের পক্ষ থেকে একা এসেছি, নিরস্ত্র অবস্থায়। সঙ্গে ছিল শুধু একটি কালো গোলাপ। তবুও আমাকে আটকে দেওয়া হলো।”

তিনি আরও বলেন, “গতকাল দিল্লিতে রাত ৯টার দিকে বাংলাদেশি দূতাবাসে হামলা হয়েছে। সেখানে ভারতীয় পুলিশ বাধা দেওয়ার বদলে পাশে দাঁড়িয়ে দেখেছে, এমনকি হেসেছে। অথচ আজ আমার দেশের পুলিশ—সুশীল অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশে—ভারতীয় দূতাবাসে নিরস্ত্র একজন নাগরিককে ঘৃণা প্রদর্শন ও একটি ফুল দেওয়াও করতে দিল না।”

রাশেদ প্রধান এ ঘটনাকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির দুর্বলতার প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এই নতজানু পররাষ্ট্রনীতি দিয়ে দেশ রক্ষা করা যাবে না। হিন্দুস্তানের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে হবে। ভারতীয় আধিপত্যবাদের কবর রচনা করতে হবে।”

ভারত সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, “গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও ওসমান হাদীর হত্যাকারীদের বাংলাদেশে ফেরত দিন। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বন্ধ করুন।”

একই সঙ্গে তিনি সীমান্ত হত্যা, অবৈধ পুশ-ইন এবং ভূমি দখল বন্ধের দাবি জানান। পাশাপাশি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা বুঝিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমাদের আপনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য করবেন না।”

রাশেদ প্রধানের একক পদযাত্রার খবর ছড়িয়ে পড়লে পথে পথে অসংখ্য দেশপ্রেমিক মানুষ তাঁর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং কিছু দূর পর্যন্ত হাঁটেন। তবে প্রায় ছয় কিলোমিটারের বেশি পথ অতিক্রম করার পর বাড্ডা লিংক রোড এলাকায় পুলিশ তাঁকে আটকে দেয়।

পুলিশের বাধার পর সেখানে কিছুক্ষণ উত্তেজনা তৈরি হলেও পরিস্থিতি পরে নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।