রাজধানী

হাদি হত্যার বিচার দাবিতে অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা ইনকিলাব মঞ্চের


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:৩৫ পিএম

হাদি হত্যার বিচার দাবিতে অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা ইনকিলাব মঞ্চের
ছবি: সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুর ২টার পর থেকে শাহবাগে অবস্থান নেন ছাত্র-জনতা। রাত ৯টা পর্যন্ত এ প্রতিবেদন লেখা সময়েও অবরোধ চলমান ছিল এবং আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন বিক্ষোভকারীরা।

আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তারা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ঘেরাও করতে বাধ্য হবেন।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চ তাদের ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দিয়ে ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে জনগণকে শাহবাগে এসে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানায়।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার পর সরেজমিনে দেখা যায়, শাহবাগ মোড়ে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। অবরোধের কারণে শাহবাগ দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং আশপাশের সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।

কর্মসূচিতে সংগঠনের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, “শহীদ হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িত পরিকল্পনাকারী ও হত্যাকারীদের সবাইকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না। আজ শাহবাগ অবরোধ করেছি, আগামীকালও অবরোধ চলবে। সারা দেশ থেকে মানুষ আসছে।”

এ সময় হাদির ভাই শরিফ ওমর বিন হাদি বলেন, “সরকারের আচরণে মনে হচ্ছে, তারা এই হত্যার বিচার চায় না। ওসমান হাদির বিচারের দাবি এখন ১৮ কোটি মানুষের দাবি। বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না। প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হব। আমাদের ক্যান্টনমেন্ট বা যমুনা ঘেরাও করতে বাধ্য করবেন না।”

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, শুক্রবার জুমার নামাজের পর থেকেই শাহবাগ অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে ইনকিলাব মঞ্চ। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। টানা পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অবরোধ চলায় আশপাশের এলাকায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন ওসমান হাদি। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।