রাজধানী
মাসে সাড়ে ৩ লাখ এনআইডি তথ্য বিক্রি করে অবৈধ আয় ১১ কোটি
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত তথ্য জালিয়াতি ও বিক্রির অভিযোগে সিআইডি (ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট) রাজধানী থেকে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে।
অভিযোগে বলা হচ্ছে, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে নাগরিকদের সংবেদনশীল এনআইডি তথ্য অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করে মাসে কোটি টাকার বেশি আয় করেছেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— গজারিয়া উপজেলা নির্বাচন অফিসের সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. হাবীবুল্লাহ (৪১) এবং ডাটা এন্ট্রি অপারেটর (আউটসোর্সিং) মো. আলামিন (৩৯)।
সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের ডিআইজি মো. আবুল বাশার তালুকদার বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানান, মাত্র ৩০ দিনে তারা ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬০৮টি এনআইডি তথ্য সরবরাহ করেছেন। প্রতিটি তথ্যের জন্য ৩০০ টাকা হিসাব করলে তাদের অবৈধ আয়ের পরিমাণ প্রায় ১১ কোটি টাকা।
তিনি বলেন, “মো. আলামিনের কাছে নির্বাচন কমিশনের একটি গোপন আইডি ও পাসওয়ার্ড ছিল, যার মাধ্যমে সারাদেশের নাগরিকদের এনআইডি তথ্য যাচাই করা সম্ভব হতো। এই আইডি ও পাসওয়ার্ড তিনি মো. হাবীবুল্লাহকে সরবরাহ করতেন এবং প্রতি সপ্তাহে ৪–৫ হাজার টাকা উৎকোচ নিতেন। মো. হাবীবুল্লাহ সেই তথ্য জনপ্রতি ২০০–৩০০ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করতেন।”
ডিআইজি আবুল বাশার আরও জানান, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে ওটিপি ট্রান্সফারের মাধ্যমে এনআইডি সার্ভারে প্রবেশ করে তথ্য সংগ্রহ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্রি করতেন। হাবীবুল্লাহ এই অপরাধ থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে ঢাকায় নিজস্ব ফ্ল্যাটসহ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি গড়ে তুলেছিলেন এবং বিলাসবহুল জীবন যাপন করতেন।
গ্রেফতারকালে তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের পল্টন মডেল থানায় দায়েরকৃত মামলার তদন্তে দেখানো হয়েছে।
ডিআইজি আবুল বাশার বলেন, “যদি চক্রে আরও কেউ জড়িত থাকে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।”
এই ঘটনায় সিআইডি গ্রাহকদের সতর্ক করেছে, ব্যক্তিগত বা অজানা উৎস থেকে এনআইডি তথ্য শেয়ার বা অর্থ লেনদেন করা যেন না হয়।