অপরাধ
ভারতে গ্রেফতার আসামিদের ফেরালেই উন্মোচিত হবে ওসমান হাদি হত্যা রহস্য: সিআইডি
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এনেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভারতে গ্রেফতার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সালসহ তিনজনকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারলেই পুরো হত্যার রহস্য উন্মোচিত হবে।
সিআইডি সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের অস্ত্র ব্যবসায়ী মাজেদুল হেলালকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে—হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটি সরবরাহ করা হয়েছিল যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার মাধ্যমে। ওই অস্ত্রটি নরসিংদী থেকে উদ্ধার করে ফরেনসিক পরীক্ষায় হত্যায় ব্যবহারের প্রমাণও পাওয়া গেছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত হিসেবে সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের ব্যক্তিগত সহকারী বিপ্লবসহ অন্তত পাঁচজনের নাম এসেছে। পাশাপাশি হত্যায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক হিসেবে ছাত্রলীগ নেতা মাইনুদ্দিন শুভর নামও উঠে এসেছে।
এর আগে রাজধানীর পল্লবীর সাবেক কাউন্সিলর বাপ্পিকে এই হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী উল্লেখ করে ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে বাদীর আপত্তির পর চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি থেকে মামলাটির অধিকতর তদন্ত শুরু করে সিআইডি।
তদন্তের অগ্রগতিতে সিআইডি জানায়, ইতোমধ্যে সন্দেহভাজন একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে তাদের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। নতুন করে আরও ছয়জনের সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া গেছে। মামলাটি এখন তদন্তের শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান বলেন, অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে দ্রুত সময়ের মধ্যেই অভিযোগপত্র দাখিল করা সম্ভব হবে। এ জন্য বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে মন্তব্য করে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এ ঘটনার বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন, তবে দেশের স্বার্থে তা প্রকাশ করছেন না।
তবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাইরের কোনো বক্তব্য আমলে না নিয়ে কূটনৈতিক চ্যানেলে অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে আনার কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে।
সরকার চায়, বিদেশে আটক আসামিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় এনে বিচার সম্পন্ন করা হোক।