শিক্ষা

বৈঠকে গিয়েও শিক্ষা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ পাননি ইবতেদায়ী শিক্ষকরা


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৫, ০৩:৩২ পিএম

বৈঠকে গিয়েও শিক্ষা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ পাননি ইবতেদায়ী শিক্ষকরা
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনরত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকদের প্রতিনিধি দল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গেলেও শিক্ষা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ পাননি।

বুধবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল মন্ত্রণালয়ে বৈঠকে যোগ দিতে গেলে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি. আর. দত্ত তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকৃতি জানান।

প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের চেয়ারম্যান কাজী মোখলেছুর রহমান ও সদস্য সচিব মাওলানা মো. আল আমিন। প্রতিনিধি দলে নীলফামারী, চট্টগ্রাম, বগুড়া, ভোলা, নেত্রকোনা, পটুয়াখালী, ময়মনসিংহ, পিরোজপুর, সিরাজগঞ্জ, নওগাঁ, বরগুনা, সাতক্ষীরা ও গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার শিক্ষক নেতারা অংশ নেন।

একজন আন্দোলনরত শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা রাজপথ থেকে এসেছি শিক্ষা উপদেষ্টা মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলতে। কিন্তু তিনি আমাদের সঙ্গে দেখা করবেন না বলে জানানো হয়েছে। তাই আমরা শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি ও শিক্ষা উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

ইবতেদায়ী শিক্ষকরা পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—

১. চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারির জাতীয়করণের ঘোষণার দ্রুত বাস্তবায়ন,
২. এমপিওভুক্তির লক্ষ্যে প্রেরিত ১,০৮৯টি প্রতিষ্ঠানের ফাইল দ্রুত অনুমোদন,
৩. অনুদানবিহীন স্বীকৃত ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোর এমপিও আবেদন আহ্বান,
৪. প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো প্রাক-প্রাথমিক পদ সৃষ্টি,
৫. ইবতেদায়ী মাদ্রাসার জন্য পৃথক অধিদপ্তর স্থাপন।

এর আগে সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু করতে গেলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তা আটকে দেয়। সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষক ও পুলিশ সদস্যরা মুখোমুখি অবস্থানে ছিলেন; ঘটনাস্থলে জলকামান ও রায়ট কারও মোতায়েন ছিল। ফলে প্রেস ক্লাব থেকে পল্টনমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর ধরে জাতীয়করণের আশ্বাস দেওয়া হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে হাজারো শিক্ষক পরিবার চরম অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। তারা বলেন, “আমরা বিনা বেতনে মাসের পর মাস কাজ করছি। যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে সম্মানী পাই, তা দিয়ে সংসার চালানো অসম্ভব।”

শিক্ষক নেতারা বলেন, ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলো দেশের প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবু সরকার অবহেলা করে যাচ্ছে। তারা হুঁশিয়ারি দেন, এবারও যদি জাতীয়করণের প্রক্রিয়া শুরু না হয়, তবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পাশাপাশি অনশন কর্মসূচিও দেওয়া হবে।