সারাবিশ্ব

রাশিয়ার পর ইরানের পক্ষ নিয়ে এবার চীনের প্রতিক্রিয়া


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬, ০৮:৩৫ এএম

রাশিয়ার পর ইরানের পক্ষ নিয়ে এবার চীনের প্রতিক্রিয়া
ছবি: সংগৃহীত

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আকস্মিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ভয়াবহ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই যৌথ হামলায় ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২০টিরও বেশি প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে।

ইরানে চলমান এই ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার পর এবার প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে অবশ্যই সম্মান জানাতে হবে। শনিবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বেইজিং সব পক্ষকে উত্তেজনা পরিহার এবং অবিলম্বে সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানায়।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি। বেইজিং মনে করে, চলমান পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে গোটা মধ্যপ্রাচ্য দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার মুখে পড়তে পারে।

এর আগে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার তীব্র সমালোচনা করে প্রতিক্রিয়া জানায় রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, এই সামরিক আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ করে পরিস্থিতিকে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের পথে ফিরিয়ে আনতে হবে। বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, এ ধরনের দায়িত্বহীন পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে।

রাশিয়া আরও দাবি করে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এসব হামলার নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন করা। মস্কো বরাবরের মতো আন্তর্জাতিক আইন, পারস্পরিক সম্মান এবং স্বার্থের ভারসাম্যের ভিত্তিতে শান্তিপূর্ণ সমাধানে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানায়।

এদিকে ইরানের ওপর হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন–এর ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভ। টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি অভিযোগ করেন, সামরিক অভিযান শুরুর আগে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক আলোচনা ছিল কেবল একটি ছলচাতুরী।

মেদভেদেভ বলেন, ‘শান্তির দূত আবারও তার আসল চেহারা দেখিয়েছে। ইরানের সঙ্গে সব আলোচনা ছিল আড়াল মাত্র। বাস্তবে কেউই কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে চায়নি।’ তাঁর মতে, শুরু থেকেই এই আগ্রাসনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর বসে নেই ইরানও। পাল্টা জবাবে ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর জবাব দিতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। কাতার, সৌদি আরব, বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে একযোগে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের খবর পাওয়া গেছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আইডিএফ নিশ্চিত করেছে, ইরান থেকে ছোড়া অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় শনাক্ত করা হয়েছে। এর পরপরই তেল আবিবসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে একের পর এক সাইরেন বেজে ওঠে এবং নাগরিকদের জরুরি আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আইডিএফের জরুরি সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের বড় ঢেউ সীমান্তের দিকে ধেয়ে আসছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে হুমকি প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। তবে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শতভাগ কার্যকর নয় বলে জানিয়ে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়াতে জনগণকে নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, শত্রু চূড়ান্তভাবে পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব স্থাপনা এখন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সশস্ত্র বাহিনীর ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচিত হবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, যেসব স্থান থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং ইরানের প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে-সবকিছুই এখন ইরানের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য দ্রুত একটি নজিরবিহীন ও ভয়াবহ সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।