সারাবিশ্ব

ইরানি ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেনের সহায়তা চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ ১১ দেশ


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩৬ এএম

ইরানি ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেনের সহায়তা চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ ১১ দেশ
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানি প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেনের কাছে সহায়তা চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও ইরানের প্রতিবেশী দেশসহ মোট ১১টি রাষ্ট্র। সোমবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটেই এসব দেশ ইউক্রেনের কাছে সহায়তার অনুরোধ করেছে।

জেলেনস্কি জানান, রাশিয়ার হামলায় ব্যবহৃত ইরানি নকশার ড্রোন প্রতিহত করার ক্ষেত্রে ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। সেই অভিজ্ঞতাকে এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজে লাগাতে চায় কিয়েভ। তার মতে, ড্রোন প্রতিরোধে ইউক্রেনের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও কৌশল বর্তমানে বিভিন্ন দেশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, জীবন রক্ষা, ড্রোন প্রতিহতকারী প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা এবং সামরিক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে ইউক্রেনের অভিজ্ঞতার প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আগ্রহ বাড়ছে। তিনি জানান, যেসব দেশ ইউক্রেনের স্বাধীনতা রক্ষায় সহযোগিতা করছে, তাদের অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দিতে প্রস্তুত রয়েছে তার দেশ। ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশের অনুরোধের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সহায়তা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতাও পাঠানো হয়েছে।

এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে গত বৃহস্পতিবার জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি সুরক্ষায় ড্রোন প্রতিরোধকারী প্রযুক্তি ও একদল বিশেষজ্ঞ পাঠিয়েছে ইউক্রেন। এসব প্রতিরোধী ড্রোন তুলনামূলক কম খরচে তৈরি করা যায় এবং ইরানি ‘শাহেদ’ ধরনের আক্রমণাত্মক ড্রোন প্রতিহতে অত্যন্ত কার্যকর বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশে রপ্তানির লক্ষ্য নিয়ে এই ধরনের ড্রোনের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এই প্রযুক্তির চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের কাছ থেকে ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা কেনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের মধ্যে আলোচনা চলছে।

জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেন তার নিজস্ব নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রেখে কীভাবে অন্যান্য দেশের অনুরোধে সহায়তা দেওয়া যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সহযোগিতার বিনিময়ে ইউক্রেন তার মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে আরও শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাবে।