সারাবিশ্ব

গাজায় দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে ৬ লাখ ৫০ হাজার শিশু, আন্তর্জাতিক নীরবতায় ক্ষোভ


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৫, ১২:৩২ পিএম

গাজায় দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে ৬ লাখ ৫০ হাজার শিশু, আন্তর্জাতিক নীরবতায় ক্ষোভ
ছবি: সংগৃহীত

টানা ১০৩ দিনের ইসরাইলি অবরোধে চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে গাজা উপত্যকা। খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানি প্রবেশ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেখানে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে।

গাজার প্রশাসন জানিয়েছে, এই পরিস্থিতিতে ৬ লাখ ৫০ হাজার শিশুসহ অন্তত ১২ লাখ ৫০ হাজার মানুষ দুর্বিষহ ক্ষুধায় দিন কাটাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ‘লজ্জাজনক নীরবতা’ এই সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (১৩ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। গাজা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, “ইসরাইলি বাহিনী আমাদের সব সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দিয়েছে। খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানি প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। এটি আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ সমষ্টিগত অবরোধ।”

প্রশাসনের কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, খাদ্য ও ওষুধের অভাবে গত তিন দিনে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তারা বলেন, “আমরা এরই মধ্যে অন্তত ৬৭ শিশুর মৃত্যু নথিভুক্ত করেছি, যারা ক্ষুধা ও চিকিৎসার অভাবে প্রাণ হারিয়েছে।” এসব তথ্য ইঙ্গিত দেয় যে, অবরোধের সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে শিশুরাই।

এই মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নির্লিপ্ত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে গাজার প্রশাসন। তারা বলছে, “যখন একের পর এক শিশু ক্ষুধায় মারা যাচ্ছে, তখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নীরব দর্শক হয়ে আছে। এটি এক ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বৈশ্বিক সহযোগিতা।”

এদিকে এই সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির অন্তত ৬০ জন এমপি গাজার ‘জাতিগত নিধন’ বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ‘লেবার ফ্রেন্ডস অব ফিলিস্তিন অ্যান্ড দ্য মিডল ইস্ট’-এর উদ্যোগে তারা ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামির কাছে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে গাজাকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ারও দাবি জানানো হয়।

এমপিরা বিশেষভাবে ইসরাইলের সেই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন, যেখানে রাফাহ শহরের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ত্রাণ শিবিরের নামে তাবু নগরী গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে তা হবে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ এবং তাদের উপস্থিতিকে মুছে ফেলার একটি নিষ্ঠুর প্রচেষ্টা।

গাজার এই অবরোধ এবং তার ফলে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ আন্তর্জাতিক বিবেকের জন্য এক কঠিন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশুরা যেখানে ক্ষুধায় মরছে, সেখানে শুধু বিবৃতি নয়, কার্যকর পদক্ষেপই হতে পারে মানবতার প্রকৃত সহায়।