সারাবিশ্ব

গাজায় যুদ্ধ বন্ধ চায় বেশিরভাগ ইসরায়েলি সেনা: জরিপ


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৫, ০৬:০১ পিএম

গাজায় যুদ্ধ বন্ধ চায় বেশিরভাগ ইসরায়েলি সেনা: জরিপ
ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলি সেনার বড় একটি অংশ ফিলিস্তিনের গাজায় চলমান যুদ্ধের অবসান চায়—এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে এক সাম্প্রতিক জরিপে। নিয়মিত ও রিজার্ভ মিলিয়ে বেশিরভাগ সেনা মনে করছেন, গাজা যুদ্ধে আর কিছুই অর্জন করার নেই, বরং এটি অবসান হওয়া উচিত।

ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম 'ওয়াল্লা নিউজ' ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম 'মিডল ইস্ট মনিটর'-এর খবরে উঠে এসেছে এমন তথ্য। জরিপটি পরিচালনা করেছে ইসরায়েলের ‘আগাম ইনস্টিটিউট’।

এতে দেখা গেছে, ৭৩ শতাংশ সেনা চায় যুদ্ধ বন্ধ হোক, বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে হামাসের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হোক। শুধু তাই নয়, ৪০ শতাংশ সেনার মতে, তারা এখন গাজায় যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার কোনো মানসিক প্রস্তুতি বা প্রেরণা আর অনুভব করছে না।

israeli army1_Dhakaprokash.jpg

এর চেয়েও বড় তথ্য হলো, ৬৪ শতাংশ সেনা বিশ্বাস করে—এই যুদ্ধটি মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ যুদ্ধের লক্ষ্য কেবল সামরিক নয়, বরং নেতানিয়াহু সরকারের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

সাধারণ ইসরায়েলিদের মধ্যেও এই মনোভাব প্রতিফলিত হচ্ছে। জরিপ অনুযায়ী, দুই-তৃতীয়াংশ জনগণ মনে করেন, এই যুদ্ধ একেবারেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রায় ৭৪ শতাংশ মানুষ যুদ্ধ বন্ধ করে বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে একটি টেকসই সমাধান চায়।

সবচেয়ে চমকপ্রদ দিকটি হলো—প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নিজের দল লিকুদ পার্টির অধিকাংশ ভোটারও যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন। জরিপ বলছে, ৫৪ শতাংশ লিকুদ সমর্থক যুদ্ধ বন্ধ করে বড় পরিসরের বন্দি বিনিময়ের পক্ষে মত দিয়েছেন।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েল গাজায় যে আগ্রাসন শুরু করেছে, তা প্রায় দুই বছর ধরে চলমান। এরই মধ্যে গাজার প্রায় সব অঞ্চল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। মানবিক অবস্থা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জাতিসংঘ সম্প্রতি গাজায় দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করেছে। খাদ্য ও ওষুধের প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ। কয়েক লাখ মানুষ গৃহহীন, আর অনাহারে মারা যাচ্ছে শত শত মানুষ।

israeli army2_Dhakaprokash.jpg

এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের ভেতরেই যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন দিন দিন জোরদার হচ্ছে। এবার সেই আন্দোলনের নেতৃত্বে এসেছে ‘হোস্টেজেস অ্যান্ড মিসিং ফ্যামিলিস ফোরাম’ নামে একটি গ্রুপ, যাদের স্বজনরা হামাসের হাতে বন্দি আছেন। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সকাল থেকেই তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছেন।

বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলের প্রধান প্রধান সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছেন। কোস্টাল হাইওয়ে বা রুট টু-তে তারা সড়কের মাঝখানে আগুন জ্বালিয়ে অবস্থান নিচ্ছেন। এতে তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে, দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

এক বিক্ষোভে অংশ নিয়ে হামাসের হাতে বন্দি থাকা মাতান জাঙ্গাউকারের মা আইনাভ জাঙ্গাউকার বলেন, “৬৯০ দিন ধরে এই যুদ্ধ চলছে—কোনো স্পষ্ট লক্ষ্য ছাড়া। এখন পুরো দেশ জানে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু কেবল একটি জিনিসকেই ভয় পান—সেটা হলো জনগণের চাপ।”

তিনি আরও বলেন, “এই যুদ্ধ আরও এক বছর আগে শেষ করা যেত। কিন্তু নেতানিয়াহু ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সাধারণ মানুষকে বলি দিয়ে যাচ্ছেন।”