সারাবিশ্ব
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা: আকাশসীমা বন্ধ করে মহড়ার ঘোষণা দিলো ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে ইরান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের জলসীমায় লাইভ-ফায়ার সামরিক মহড়া চালানোর সিদ্ধান্ত জানিয়েছে তেহরান।
মঙ্গলবার ইরান সরকার নোটিশ টু এয়ারম্যান (নোটেম) জারি করে জানায়, হরমুজ প্রণালীসংলগ্ন এলাকায় ভূপৃষ্ঠ থেকে ২৫ হাজার ফুট পর্যন্ত সব ধরনের বিমান চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। নোটেমে আরও সতর্ক করা হয়েছে, নির্ধারিত উচ্চতার নিচে কোনো বিমান প্রবেশ করলে সেটিকে শত্রু লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এর আগে ২৬ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের নেতৃত্বে একটি বড় নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে। পরদিনই মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকোম ওই অঞ্চলে বিমান মহড়ার ঘোষণা দেয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর সেই বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
গত বছরের জুনে ইরানের পরমাণু প্রকল্পকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে দেশটির সরাসরি সংঘাত হয়। ১২ দিনব্যাপী ওই সংঘর্ষে ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে এবং দেশটির একাধিক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হন।
যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে ওই সংঘাতের অবসান ঘটলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা কমেনি। এর মধ্যেই ইরানে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। গত ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত চলা ওই বিক্ষোভের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সময় সামরিক অভিযানের হুমকি দেন।
ট্রাম্পের নির্দেশেই জানুয়ারির মাঝামাঝি এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চল থেকে যাত্রা শুরু করে মার্কিন নৌবহরটি ২৬ জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছায়। এর ঠিক পরদিন সেন্টকোম সামরিক বিমান মহড়ার ঘোষণা দেয়। সেই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান আকাশসীমা বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালীতে লাইভ-ফায়ার মহড়ার ঘোষণা দেয়।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। প্রতিদিন বিশ্বের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়।