সারাবিশ্ব

হঠাৎ সৌদিতে জরুরি সতর্কতা, সীমান্তবর্তী দুই শহরে বাড়ানো হয় নিরাপত্তা


সারাবিশ্ব ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৯ এএম

হঠাৎ সৌদিতে জরুরি সতর্কতা, সীমান্তবর্তী দুই শহরে বাড়ানো হয় নিরাপত্তা
ছবি: সংগৃহীত

ইয়েমেনে চলমান সামরিক সংঘাত নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করায় সৌদি আরবের সীমান্তবর্তী আসির প্রদেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ শহর খামিস মুশাইত ও আবহায় সাময়িকভাবে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ এ সতর্কতা জারি করে। তবে পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়ে পরবর্তী সময়ে সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। সৌদি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, বর্তমানে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি নিরাপদ রয়েছে। তবে সীমান্ত পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক সংঘাতের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ বিশেষভাবে জানিয়েছে, কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে ঘটনাস্থলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ভিড় করা যাবে না। একই সঙ্গে নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট কোনো ঘটনা, সামরিক তৎপরতা বা সংশ্লিষ্ট স্থানের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ না করার জন্যও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনা অমান্য করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

সৌদি আরবের সীমান্তবর্তী এলাকায় এই সতর্কতা জারির পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে প্রতিবেশী ইয়েমেনে সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে যাওয়া সামরিক উত্তেজনাকে। দেশটিতে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারের অনুগত বাহিনীর মধ্যে আবারও সংঘাত তীব্র হয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক লড়াইয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

বিশেষ করে ইয়েমেনের তাইজ, আল-জাওফ ও আল-বাইদা প্রদেশে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘর্ষের মাত্রা বেড়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগর ও এর আশপাশের কৌশলগত জলসীমায় হুতিদের সামরিক তৎপরতা এবং প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। ফলে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের প্রভাব সৌদি আরবের সীমান্তবর্তী এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পরিস্থিতির কারণে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটও ইয়েমেনে হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান ও বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সীমান্তবর্তী সৌদি শহরগুলো ইয়েমেনের সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোর তুলনামূলকভাবে কাছাকাছি হওয়ায় যেকোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন হামলা বা সামরিক উত্তেজনার ক্ষেত্রে এসব এলাকায় নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণেই সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ইয়েমেনের চলমান সংকট অবশ্য নতুন নয়। ২০১৪ সালে হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করার পর দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায় এবং শুরু হয় দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধ। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন এবং হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করে।

এরপর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইয়েমেন সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মানবিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান এখনো সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে লোহিত সাগরে হুতিদের সামরিক তৎপরতা এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর পারস্পরিক উত্তেজনা ইয়েমেন সংকটকে আরও আন্তর্জাতিক মাত্রা দিয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের খামিস মুশাইত ও আবহা শহরে সাময়িক জরুরি সতর্কতা জারি এবং পরে তা প্রত্যাহারের ঘটনাকে সীমান্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রতি দেশটির বাড়তি সতর্কতারই ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও বর্তমানে পরিস্থিতি নিরাপদ বলে জানিয়েছে সিভিল ডিফেন্স, তবুও সম্ভাব্য যেকোনো পরিবর্তনের বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।