সারাদেশ

সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ দেশে ফেরত


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪১ পিএম

সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ দেশে ফেরত
ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের চান্দেরহাট সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক আসাদুল হকের মরদেহ পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে দেশে ফেরত আনা হয়েছে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার জিনাজপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) মরদেহটি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করে। পরে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করে সংশ্লিষ্টরা।

নিহত আসাদুল হক (৩৮) ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ ইন্দ্রইল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল ওয়াজেদের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে পীরগঞ্জের চান্দেরহাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের ৩৩৩ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টার সময় বিএসএফের গুলিতে আসাদুল হকসহ তিন বাংলাদেশি আহত হন। পরে বিএসএফ সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে ভারতের উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসাদুল হকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

আহত অপর দুই বাংলাদেশি হলেন পীরগঞ্জ উপজেলার উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামের আহেদ আলীর ছেলে মোস্তাকিম এবং নারায়ণের ছেলে শ্রী উদা। তারাও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় কালিয়াগঞ্জ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে ভারতের পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের অভিযোগে মামলা করে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।

বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, শনিবার ভোররাতে সীমান্ত পিলার ৩৩৩-এর কাছে ভারতের উত্তর দিনাজপুর এলাকার ৬৩ নম্বর চকশিবানন্দ বিএসএফ ক্যাম্পের একটি টহলদল বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে বিএসএফ সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে ভারতের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আসাদুল হকের মৃত্যু হয়।

আসাদুলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সীমান্তবর্তী এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা করতে রবিবার দুপুরে চান্দেরহাট সীমান্তের শূন্যরেখায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে দিনাজপুর ৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন হাসানসহ বিজিবির কর্মকর্তারা অংশ নেন। অন্যদিকে বিএসএফের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে নিহত আসাদুল হকের মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। দুই পক্ষের আলোচনার পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রবিবার রাত ১০টার দিকে বিএসএফ মরদেহটি বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে।

পরে বিজিবি সদস্যরা মরদেহ গ্রহণ করে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেন। মরদেহ দেশে ফেরত আসার খবরে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন গণমাধ্যমকে বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে তারা আসাদুল হকের নিহত হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর নিহতের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা করা হয়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে রবিবার রাত ১০টার দিকে বিএসএফ আসাদুল হকের মরদেহ বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে।

সীমান্তে গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এ ধরনের ঘটনায় সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে প্রাণহানি এড়াতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও নিয়মিত যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।