রাজনীতি

অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০% দিয়েন: আসিফ মাহমুদ


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৭ এএম

অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০% দিয়েন: আসিফ মাহমুদ
ছবি: সংগৃহীত

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। অভিযোগের মধ্যে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচারের বিষয় রয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও বিভিন্ন পদে নিয়োগ, প্রকল্প, দরপত্র এবং ঘুষ লেনদেনকে কেন্দ্র করেও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রোববার গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশের পর নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে প্রতিক্রিয়া জানান আসিফ মাহমুদ। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০% দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে।’

পরে রাজধানীর বাংলামোটরে এক সংবাদ সম্মেলনেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন তিনি। আসিফ মাহমুদ বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের সংস্কার না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি এখনো আগের মতোই ব্যবহৃত হচ্ছে।

সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অভিযোগের অঙ্ক নিয়ে সংশ্লিষ্টদের নিজেদের মধ্যে আগে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, কখনো ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা, আবার কখনো ১১ হাজার কোটি টাকা, কয়েকদিন আগে ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকার কথা শোনা গেছে। ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা থেকে ১১ হাজার কোটি টাকায় চলে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সরকারের নিজেদের মধ্যে আগে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

নিজের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, প্রথম রাজনীতিক হিসেবে তার বিরুদ্ধেই মামলা করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, দুই দিন আগে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন, বিএনপির সময়ে হওয়া একটি পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, একটি অভিযোগে কাজ না হলে আরেকটি অভিযোগ আনা হচ্ছে। এরপর আরও অভিযোগ আসতে পারে। তবে এসব বিষয়ে তিনি প্রস্তুত রয়েছেন বলেও জানান।

দুর্নীতি দমন কমিশনের সংস্কার প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, কমিশনের সংস্কার করা হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। তখনই তারা বুঝতে পেরেছিলেন, এই প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে। তার দাবি, অতীতে যে কারণে দুর্নীতি দমন কমিশনকে ব্যবহার করা হয়েছে, ভবিষ্যতেও একই কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যবহার করা হতে পারে।