জাতীয়

দেশে উৎপাদন বাড়িয়ে কৃষিপণ্যের আমদানি নির্ভরতা কমানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম

দেশে উৎপাদন বাড়িয়ে কৃষিপণ্যের আমদানি নির্ভরতা কমানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

দেশে উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে এমন কৃষি ও খাদ্যপণ্যের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ জন্য কৃষি গবেষণা, উন্নত জাত, আধুনিক প্রযুক্তি, সেচ ও কৃষিযান্ত্রিকীকরণের সুবিধা দ্রুত কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

রোববার ১৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে সচিবালয়ের নিজ কার্যালয় থেকে পায়ে হেঁটে কৃষি মন্ত্রণালয়ে যান প্রধানমন্ত্রী। পরে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। লিফট ব্যবহার না করে সিঁড়ি দিয়ে বৈঠকে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে কৃষি খাতের সার্বিক পরিস্থিতি, চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এতে জানানো হয়, ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে দেশে সরিষার উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। ২০২১ থেকে ২০২২ অর্থবছরে সরিষার উৎপাদন ছিল ৮ দশমিক ২৪ লাখ মেট্রিক টন। ২০২৪ থেকে ২০২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ১৫ দশমিক ৩৪ লাখ টন এবং ২০২৫ থেকে ২০২৬ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৪১ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে।

পেঁয়াজের উৎপাদন ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও বৈঠকে তুলে ধরা হয়। কৃষক পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণে বায়ু চলাচল প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জাত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লবণাক্ততা, খরা ও জলাবদ্ধতা সহনশীল নতুন ফসলের জাত মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার কার্যক্রম চলছে।

কৃষি গবেষণার অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রণালয় জানায়, বিভিন্ন ফসলের মোট ১ হাজার ৯০টি জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এর মধ্যে ধানের জাত রয়েছে ১৫৫টি। এ ছাড়া এক হাজারের বেশি কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের তথ্যও বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।

কৃষি উৎপাদনে শ্রম ও ব্যয় কমানোর পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কৃষিযান্ত্রিকীকরণে আরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। দেশীয় কৃষিযন্ত্র উদ্ভাবন ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার ও রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মতো বিভিন্ন কৃষিযন্ত্র কৃষকের কাছে সুলভমূল্যে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানানো হয়।

কৃষিতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। বর্তমানে দেশে ২ হাজার ৬১৭টি সৌর সেচব্যবস্থা রয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর সেচ বাড়ানো গেলে কৃষকের সেচ ব্যয় এবং প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।

কৃষকদের সরকারি সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড কর্মসূচিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় ২০২৬ থেকে ২০২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। প্রথম ধাপে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কৃষককে কার্ড দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

বৈঠকে কৃষিযান্ত্রিকীকরণ, সৌর সেচ, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বিপণন নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে উৎপাদন করা সম্ভব এমন কৃষি ও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে আমদানির ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমাতে হবে। এ জন্য গবেষণা, উন্নত জাত, আধুনিক প্রযুক্তি, সেচ ও কৃষিযান্ত্রিকীকরণের সুবিধা দ্রুত কৃষকের কাছে পৌঁছে দিয়ে দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।