সারাদেশ

‘ঘুষ.সাইটে’ অভিযোগের পর ময়মনসিংহের শিক্ষা কর্মকর্তা বদলি


সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম

‘ঘুষ.সাইটে’ অভিযোগের পর ময়মনসিংহের শিক্ষা কর্মকর্তা বদলি
ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তিন দিনের মাথায় সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনকে বদলি করা হয়েছে। সরকারি আদেশে তাকে সদর উপজেলা থেকে নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

গত ৬ সেপ্টেম্বর দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। এর তিন দিন পর, ৯ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের এক অফিস আদেশে মনিকা পারভীনকে বদলি করা হয়। আদেশে বদলির কারণ হিসেবে ‘জনস্বার্থে’ উল্লেখ করা হয়েছে।

১৭ বছর বয়সী শাহেদ শরীফ আহমেদের অভিযোগ, তার মা আমিনা খাতুন চাকরিরত অবস্থায় মারা যান। তার পরিবার কল্যাণ তহবিল ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পরিবারের প্রায় ১০ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। এই টাকা পেতে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তার কাছে এক লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন শাহেদ। ঘুষ না দিলে ফাইল এগোবে না বলেও তাকে জানানো হয়েছিল বলে দাবি তার।

পরে শাহেদ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘ঘুষ.সাইটে’ এ বিষয়ে অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর গত ৩১ আগস্ট হিসাব সহকারী এ এইচ এম নাদিরুল হাসান সবুজ এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মুহাম্মদ মজিবুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হারুন সিকদার জানান, গত ৬ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বদলির বিষয়ে মনিকা পারভীন বলেন, সরকারি আদেশে ‘জনস্বার্থে’ তাকে বদলি করা হয়েছে। তবে এর নির্দিষ্ট কারণ তিনি জানেন না।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি আদেশ অনুযায়ী যেকোনো কর্মকর্তাকে বদলি করা হতে পারে। তবে ঘুষের অভিযোগ ও কারণ দর্শানোর নোটিশের সঙ্গে এই বদলির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।

অন্যদিকে ‘ঘুষ.সাইট’ চালুর পর থেকে মোবাইল ফোনে হুমকি পাওয়ার অভিযোগ করেছেন শাহেদ শরীফ আহমেদ। তবে এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা করা হয়নি।

গত ২১ আগস্ট শাহেদ শরীফ আহমেদ ও সাইফ কবির ‘ঘুষ.সাইট’ চালু করেন। উদ্যোক্তাদের দাবি, সরকারি সেবা নিতে গিয়ে ঘুষ দাবি বা দেওয়ার অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।