জাতীয়

আদানির ইউনিট চালু, এবার বন্ধ রামপালের এক ইউনিট


ঢাকাপ্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম

আদানির ইউনিট চালু, এবার বন্ধ রামপালের এক ইউনিট
ছবি: সংগৃহীত

কয়লাস্বল্পতার কারণে প্রায় এক মাস ধরে সীমিত উৎপাদনে থাকা ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মিত আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ ইউনিট আবার চালু হয়েছে। রোববার দুপুর ১২টার দিকে ইউনিটটি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে।

তবে একই দিন কারিগরি ত্রুটির কারণে বাগেরহাটের রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ সূত্র জানায়, রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর দুপুর ১২টার দিকে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়।

ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে বর্তমানে পর্যাপ্ত কয়লা মজুত রয়েছে। ফলে সম্প্রতি কেন্দ্রটি থেকে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল। তবে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন এখন ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমেছে।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, কী কারণে ইউনিটটি বন্ধ হয়েছে, তা শনাক্ত করতে কাজ চলছে। দ্রুত ইউনিটটি পুনরায় উৎপাদনে ফেরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কেন্দ্রে পর্যাপ্ত কয়লা মজুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় গত ৭ আগস্ট থেকে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমে যায়। গত মাসের শেষ দিকে উৎপাদন কিছুটা বাড়ানো হয়। তখন দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল কেন্দ্রটি।

গত বুধবার রাতে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। তবে রাত ১২টার দিকে একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেলে উৎপাদন ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে। এতে দেশে লোডশেডিং বেড়ে যায়।

আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত দুই দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, একটি ইউনিটের বয়লারে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। রোববার ভোরে মেরামতের কাজ শেষ হওয়ার পর ইউনিটটি পুনরায় উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করা হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে সেটি।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ সূত্র জানায়, রোববার বেলা ২টার দিকে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিট মিলিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ১ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। সকালে কেন্দ্রটি সর্বোচ্চ ৭৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল। বিকেলের দিকে সরবরাহ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মিত আদানি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটিতে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। ২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। চাহিদা অনুযায়ী কেন্দ্রটি থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ডও রয়েছে।